বাণিজ্য ডেস্ক :
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সবশেষ অক্টোবরের ঘোষণায় ১২ কেজি এলপিজির দাম বেঁধে দেয়া হয়েছে ১২০০ টাকা। কিন্তু তা উপেক্ষিতই থাকছে ভোক্তা পর্যায়ে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৩১ অক্টোবর) সরেজমিন রাজধানীর হাজারীবাগের এক দোকানে গিয়ে তার বাস্তবিক প্রমাণ মিলেছে। দেখা যায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি দাম হাঁকছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
আবাসিক কিংবা বাণিজ্যিক, শহর কিংবা গ্রাম সব ক্ষেত্রেই প্রতিনিয়ত বাড়ছে এলপি গ্যাসের ব্যবহার। তবে থামছে না দাম-বিতর্ক। সব হিসাব-নিকাশ কষে প্রতি মাসে এলপিজির দাম বেঁধে দিচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি, কিন্তু তার সুফল পাচ্ছে না গ্রাহক।
গ্রাহকদের প্রায় সবারই অভিন্ন অভিযোগ, বাসায় পৌঁছে দেয়ার খরচ বাদেই ১২ কেজি এলপি গ্যাসে গুনতে হচ্ছে বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে এক থেকে দেড়শ’ টাকা বেশি।
খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে নিজেরাই বাড়তি দামে কেনায় নিরুপায় হয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে রাখতে হচ্ছে বেশি টাকা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য (গ্যাস) মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, যারা মূল্য নির্ধারণ করে, তাদের যেমন দায়িত্ব থাকে, যারা ক্রেতা তাদেরও তেমনি দায়িত্ব থাকে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্যদিকে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘অতিরিক্ত দাম নেয়াটা আইনের দৃষ্টিতে লুণ্ঠনমূলক হয়ে গেল। যেখানে আয় করার সুযোগ তারা পাচ্ছে, বিইআরসি সেখানে বলছে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। ক্যাব বারবার অভিযোগ করলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা আমরা দেখতে পারছি না।’
দাম নিয়ে বিইআরসির আদেশ না মানা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
