হোম জাতীয় বি‌য়ের আশ্বাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

জাতীয় ডেস্ক :

টাঙ্গাইলে এক ক‌লেজছাত্রী‌কে বি‌য়ের আশ্বাস দিয়ে একা‌ধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বাসাইল উপ‌জেলার সা‌বেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর হো‌সে‌নের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ইউএনওর শাস্তি চে‌য়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ দি‌য়ে‌ছেন ওই ছাত্রী। বর্তমানে ইউএনও মো. মনজুর হোসেন কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায় নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত।

ওই কলেজছাত্রীর লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালে বাসাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর হোসেন দায়িত্বে থাকাকালীন ফেসবু‌কের মাধ্যমে পরিচয় হয় কলেজছাত্রীর। একপর্যায়ে তা‌দের ম‌ধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথমে ইউএনও সরকা‌রি বাসভব‌নে নি‌য়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ক‌রেন। এরপর ওই ক‌লেজছাত্রীর অন‌্যত্র বি‌য়ে ঠিক হ‌লে মনজুর বি‌য়ে বন্ধ ক‌রে ক‌লেজছাত্রী‌কে বা‌ড়ি থে‌কে চ‌লে আস‌তে ব‌লেন।

এরপর ওই ছাত্রীকে নি‌য়ে ইউএনও টাঙ্গাইল কুমুদিনী সরকারি কলেজসংলগ্ন পাওয়ার হাউস এলাকায় পরিচয় গোপন ক‌রে স্বামী-স্ত্রী প‌রিচয়ে এক‌টি বাসা ভাড়া নি‌য়ে বসবাস শুরু ক‌রেন। সেখানে তারা দুই মাস ঘরসংসার করেন। প‌রে ওই ছাত্রী বিয়ের জন‌্য চাপ প্রয়োগ করলে ইউএনও মনজুর হো‌সেন ভার‌তে গি‌য়ে তা‌কে বি‌য়ে কর‌বেন ব‌লে জানান। এরপর জোবা‌য়েত না‌মের এক ব‌্যক্তির মাধ‌্যমে ওই ছাত্রীর ভার‌তে মে‌ডি‌কেল ভিসা করা‌নো হয়‌। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত ১০টায় বাসাইলের সহকা‌রী ক‌মিশনারের (ভূমি) সরকা‌রি গাড়িতে জোবায়েত হোসেন ও চালক বুলবুল হোসেনসহ দুজন আনসার সদস্য মি‌লে বেনাপোল গি‌য়ে সেখানকার বর্ডার পার হ‌য়ে কলকাতা এয়ার‌পোর্ট হ‌য়ে হায়দরাবা‌দ বিমানবন্দ‌রে না‌মেন।

বিমানবন্দ‌রের কা‌ছে একটা বাসা ভাড়া নি‌য়ে সেখা‌নে দুজন বসবাস ক‌রে চি‌কিৎসা নি‌তে থা‌কেন। একপর্যা‌য়ে ওই ছাত্রী ইউএনওর মোবাইলের মাধ‌্যমে বি‌য়ে হওয়া ও তার ঘ‌রে সন্তান থাকার ‌বিষয়‌টি জান‌তে পা‌রেন। প‌রে ইউএনও এ ঘটনা কাউ‌কে না বল‌তে ছাত্রী‌কে অনু‌রোধ ক‌রেন, অন‌্যথায় তা‌কে মে‌রে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

এদিকে প্রতারণা ক‌রে ক‌লেজছাত্রীকে ধর্ষণ এবং স্ত্রীর মর্যাদা না প‌াওয়ায় ইউএনওর শা‌স্তি চে‌য়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বরাবর অভিযোগ দি‌য়ে‌ছেন ছাত্রী।

কলেজছাত্রী বলেন, ‘ইউএনও মনজুর হোসেনের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। প‌রে বি‌য়ের আশ্বাসে একা‌ধিকবার শা‌রীরিক সম্পর্ক হয়। তিনি শুধু আমাকে ব্যবহারই করেছেন, সামাজিকভাবে স্ত্রীর মর্যাদা দেননি। বিষয়‌টি নি‌য়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণাল‌য়ে লি‌খিত অ‌ভি‌যোগ দি‌য়ে‌ছি।’

বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, ‘সা‌বেক ইউএনও মনজুর হোসেন মোবাইলে ওই মে‌য়ে‌টির বিষয়ে জানান। মে‌য়ে‌টি না‌কি তার বিরু‌দ্ধে জনপ্রশাস‌নে অভিযোগ দি‌য়েছে। প‌রে মে‌য়ে‌টি‌র সঙ্গে একজন চেয়ারম‌্যা‌নের মাধ‌্যমে কথা ব‌লি। তখন মে‌য়ে‌টি বিষয়‌টি আইনগতভা‌বে লড়‌ছে ব‌লে জানায়।’

অভিযোগের বিষয়‌টি অস্বীকার ক‌রে কি‌শোরগ‌ঞ্জের ক‌রিমগঞ্জ উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর হো‌সেন ব‌লেন, অভিযো‌গ সম্পূর্ণ ভি‌ত্তিহীন। এ ধর‌নের কোনো ঘটনা ঘ‌টে‌নি।

এদিকে টাঙ্গাই‌লের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ) সোহানা নাস‌রিন জানান, ওই ইউএনওর বিষয়‌টি নি‌য়ে তদন্ত চল‌ছে। তদন্ত শে‌ষে আগামী সাত কর্মদিব‌সের ম‌ধ্যে তদন্ত প্রতি‌বেদন জমা দেওয়া হ‌বে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন