বাণিজ্য ডেস্ক :
ফ্রিল্যান্সিং খাত থেকে বছরে এক বিলিয়ন ডলার আয় করছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের মধ্যে এ খাতের আয় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
বুধবার (১১ মে) আগারগাঁওয়ের বিডা মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা বললেন, সমস্যা সমাধান ও ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগে ভর করে ২০২৫ সালেই ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং খাত ৫০০ মিলিয়ন নয়, বরং এক বিলিয়ন ডলার আয় করছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা।
বিশ্বায়নের ফলে ছোট্ট গ্রামে পরিণত হয়েছে পুরো দুনিয়া। প্রযুক্তির কল্যাণে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো বৈদাশিক মুদ্রা আয় ও কর্মসংস্থান তৈরির নতুন উৎস খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ। ঘরে বসেই হুন্দাই ও মার্সিডিজের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যান্ডের গাড়ির থ্রি-ডি নকশা প্রস্তুত করছেন বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা।
এ সময় আইডি কার্ড ও ঋণ সুবিধা প্রদানসহ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন সালমান এফ রহমান।
ফ্রিল্যান্সিং খাত থেকে বছরে এক বিলিয়ন ডলার আয় করছে বাংলাদেশ। বিশ্বের টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সারদের ৬৪ শতাংশই বাংলাদেশি তারপরও আত্মবিশ্বাসের অভাবে নামমাত্র মূল্যে কাজ করেন তারা। পেপ্যাল না থাকায় অর্থ পেতে রয়েছে নানা ভোগান্তি।
ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে বুধবার (১১ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত সেমিনারে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্বে ফ্রিল্যান্সিংয়ের বাজার দেড় ট্রিলিয়ন ডলার। এ বাজারে কাজ করছে সাড়ে ছয় লাখ বাংলাদেশি। কর্মী সরবরাহের হিসাবে যা বিশ্বে দ্বিতীয়। অথচ আয়ের দিক থেকে ৮তম।
বক্তাদের অভিমত, বাংলাদেশিরা গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মতো বিষয়ে বেশি প্রশিক্ষিত। এসব কাজে তুলনামূলক অর্থ কম। আবার প্রতিযোগী দেশগুলোর ফ্রিল্যান্সারদের মতো তারা দরকষাকষি করতে পারেন না।
এ সময় বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ডা. তানজিবা রহমান বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ফ্রিল্যান্সিংয়ের বাজার ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। করোনার আগে গুগল ৪৩ শতাংশ কাজ করাতো। এখন ৭৫ শতাংশ করাচ্ছে।
তিনি বলেন, ভারতের একজন ফ্রিল্যান্সার যে কাজের ১১ ডলার দাবি করেন, সেখানে আমরা কাজটা করছি ২ থেকে ৩ ডলারে। এখান থেকে আমাদের বের হতে হবে। আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে।
সম্মেলনে অনেকেই দেশে অর্থ আনা ও রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা পেতে ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন।
