খেলাধূলা ডেস্ক :
ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের হতাশাজনক অবস্থা দেখে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বিপিএলের চেয়ে বরং ক্লাবগুলো নিয়ে হওয়া ঢাকা ক্রিকেট লিগকে (ডিপিএল) বেশি গোছানো ও পেশাদার বলে মনে করেন টাইগারদের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। বিপিএল শুরুর আগে তাই সমালোচনা করলেন বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের।
বিপিএলের নবম আসর সামনে রেখে অনেক আগে থেকেই তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছিল বিসিবি। কিন্তু টুর্নামেন্ট যখন দোরগোড়ায়, তখন একে একে বের হয়ে আসছে অনেক সীমাবদ্ধতা। অন্যান্য দেশে যখন ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে তখন বিপিএলের জনপ্রিয়তা তলানিতে। এমন হওয়ার পেছনে বিসিবির পরিচালক দায়ী করেছেন দেশের ক্রিকেট বাজার বড় করতে বিসিবির ব্যর্থতাকে। সাকিব এর জন্য দায়ী করেছেন বিসিবির মার্কেটিং ব্যর্থতাকে।
সাকিব বলেন, ‘বাজার নেই, কারণ আমরা বাজার তৈরি করতে পারিনি। এই বাজার অনেক বড় হওয়ার কথা ছিল। এমন কোন প্রত্যন্ত অঞ্চল দেখবেন না যেখানে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে না। অজপাড়াগাঁয়েও কোনোমতে একটা ব্যাট, একটা বল, বল না পেলে অন্যকিছু দিয়ে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে। এমন তো না যে, এটার জনপ্রিয়তা নেই। ১৬-২০ কোটি মানুষের দেশে এতো পছন্দের খেলার বাজার থাকবে না, এটা বিশ্বাস করা খুবই দুঃখজনক। আমি অন্তত বিশ্বাস করি না। মার্কেটিংয়ের জায়গা থেকে এটা অনেক বড় ব্যর্থতা।’
নানা আক্ষেপের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে বিপিএলের নবম আসর। অনেক দলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জার্সি ছাড়াই। অনুশীলনের ক্ষেত্রেও ভিন্ন ভেন্যুর ব্যবস্থা করতে পারেনি আয়োজকরা। শীর্ষস্থানীয় বিদেশি তো নেই-ই, যারা নাম লিখিয়েছেন তাদের অনেকই এখনো দলের সঙ্গে যোগ দেননি। প্লে-অফ রাউন্ডের আগে ডিআরএসের ব্যবস্থাও থাকছে না, কাজ চালানো হবে অল্টারনেটিভ ডিআরএস দিয়ে। সাকিব ক্ষোভ জানালেন এই অনিয়ম নিয়েও।
তিনি বলেন, ‘জানি না! বাজেট সংকট বোধহয় বিসিবির। স্বদিচ্ছা থাকলে আমি তো কোনো কিছু থেমে থাকার কিছু দেখি না। ৩ মাস আগে ড্রাফট হবে না, অকশন হবে না, ডিআরএস থাকবে না, ২ মাস আগে থেকে দল গঠন হবে না -আমি এতো এসবের কোনো কারণ দেখি না। এক খেলোয়াড় একদিন আসবে ২ দিন পর চলে যাবে। কে কখন আসবে যাবে -কেউ জানে না। ‘
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষুব্ধ সাকিব। ব্যবস্থাপনার দিক দিয়ে ঢের এগিয়ে রাখছেন ডিপিএলকে। সাকিব বলেন, ‘নিউজে দেখলাম খেলোয়াড়রা এখনো ড্রেস পায়নি। মানে একটা যা তা অবস্থা। এর চেয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আরও ভালোভাবে হয়। আগে থেকে দল গোছাতে পারে, আগে থেকে জানে দল কেমন হচ্ছে এবং সেভাবে কাজও করতে পারে। পরের বিপিএলে কার কোন দল সবাই জানে। বিপিএলে তো কোনো ঠিকঠিকানা বুঝতে পারি না। ম্যাচ শুরু হওয়ার পর বিপিএল শুরু হয়। তার আগে সবাই যার যার মতো প্র্যাকটিস করছে।’
বিপিএলের গত আসরে ফরচুন বরিশালকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাকিব। এবারও বরিশালের নেতৃত্ব থাকছে তার হাতেই।
