হোম জাতীয় বিপন্ন মেছো বিড়াল বেঁধে রেখেছিলেন গ্রামবাসী

জাতীয় ডেস্ক :

সাতক্ষীরার তালায় লোকালয় থেকে একটি বিপন্ন প্রজাতির মেছো বিড়াল উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

বুধবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের সুভাষিনী গ্রামের মোড়লপাড়া এলাকা থেকে মেছো বিড়ালটি উদ্ধার হয়।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেলে মেছো বিড়ালটি লোকালয়ে ঢুকে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা প্রাণীটিকে ধাওয়া করে ধরে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন এবং বন বিভাগ ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ওয়াইল্ডলাইফ মিশনের সদস্যদের খবর দেন। পরে উপজেলা বন অফিসের কর্মকর্তা এবং ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ওয়াইল্ডলাইফ মিশনের সদস্যরা গিয়ে মেছো বিড়ালটি উদ্ধার করে।

তালা উপজেলা বন কর্মকর্তা ইউনুস আলী জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ওয়াইল্ডলাইফ মিশনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মেছো বিড়ালটি দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রাণীটিকে স্থানীয় বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

এ সময় ওয়াইল্ডলাইফ মিশনের সেলিম শেখ, জুলফিকার রায়হান , রাশেদ বিশ্বাস, ইউনুস আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মেছো বিড়ালটি উদ্ধার ও পরিচর্যায় সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মানবিকতা ও মমত্ববোধের প্রশংসা করেন বাংলাদেশ বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা।

মেছো বিড়াল সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাণীটির প্রকৃত নাম মেছো বিড়াল (Fishing Cat)। কিন্তু অনেক এলাকায় এটিকে মেছোবাঘ নামেও ডাকে। বাঘ নামে ডাকার কারণে শুধু শুধু আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রাণীটি মানুষকে আক্রমণ করে না, বরং মানুষ দেখলে পালিয়ে যায়। তাই এটি নিয়ে ভীত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এই প্রাণীটি বিচরণ রয়েছে। জলাভূমি আছে এমন এলাকায় বেশি দেখা যায়। প্রাণীটি জলাভূমির মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া ছাড়াও পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে। জনবসতি স্থাপন, বন ও জলাভূমি ধ্বংস, পিটিয়ে হত্যা ইত্যাদি কারণে বিগত কয়েক দশকে এই প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

জোহরা মিলা আরও বলেন, ২০০৮ সালে মেছো বিড়ালকে বিপন্ন প্রাণী প্রজাতির তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন)। তাছাড়া বন্যপ্রাণী আইন-২০১২ অনুযায়ী এই প্রজাতি সংরক্ষিত। তাই এই প্রাণীটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতিকরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন