জাতীয় ডেস্ক :
বিদ্যুৎ উৎপাদনে মনোযোগী হলেও দেশে এখনও দুর্বল সঞ্চালন ব্যবস্থা। এতে দিনকে দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে জাতীয় গ্রিড। স্বল্প সময়ে আধুনিক গ্রিড ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে খোদ বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমন্বিত কারিগরি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে আসছে বছর উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যে থাকা রূপপুরের মতো বৃহৎ প্রকল্পও হোঁচট খাবে।
উৎপাদনের উল্লম্ফন গতিতে একযুগের ব্যবধানে দেশের শতভাগ মানুষ এখন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায়। এটি যেমন প্রতিষ্ঠিত, তেমনি বিতরণ ও সঞ্চালন সীমাবদ্ধতায় মানসম্মত বিদ্যুতের প্রশ্নে এখনও ঢের পিছিয়ে বাংলাদেশ।
১৩ বছরে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন যে হারে বাড়ানো হয়েছে। সেভাবে পথ তৈরি হয়নি এ বিদ্যুৎ সরবরাহ বা বিতরণের। সম্ভাবনাময় পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালালেও সেই বিদ্যুৎ পরিবহনের লাইন এখনও তৈরি হয়নি পুরোপুরি। উৎপাদন সক্ষমতা যখন ২৫ হাজার মেগাওয়াটের ঘর ছাড়িয়েছে; তখনও সর্বসাকূল্যে ১৪ হাজার মেগাওয়াটেই ঘুরপাক খায় চাহিদা।
অদূর ভবিষ্যতে রামপাল, মাতারবাড়িসহ বিদ্যুতের মেগাপ্রকল্পগুলো উৎপাদনে এলে, বিদ্যমান গ্রিডগুলো ঠিকমতো সঞ্চালনে হোঁচট খেতে পারে। সেই শঙ্কা খোদ সরকারেরই। সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর মতে, বিলম্বে হলেও শুরু হয়েছে গ্রিড আধুনিকায়নের কাজ।
নসরুল হামিদ বিপুর বলেন, ভুক্তভোগী, সিস্টেম বড় হচ্ছে, অটোমেশন তো হচ্ছে না পুরোপুরি। এজন্য আমরা ধাক্কা খাচ্ছি। সিস্টেম বড় হয়েছে, তখনকার সিস্টেম আর এখনকার সেই সিস্টেম এক নেই। তখন সিস্টেম ছিল সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার, কিন্তু আমরা ধরে নিয়েছি ৬০ হাজার পর্যন্ত করব সিস্টেমটা।
আগামী বছরের শেষে রূপপুর থেকে উৎপাদন শুরু হলে, সে বিদ্যুৎ সারা দেশে পৌঁছে দিতে যে কর্মযজ্ঞ প্রয়োজন। তা কতটুকু ফলপ্রসূ হবে সেই উদ্বেগও ভাবাচ্ছে নীতিনির্ধারকদের।
নসরুল হামিদ বিপু বলেন, আমাদের অটোমেশনে যেতে হবে, গ্রিডস মার্কেটে যেতে হবে, এটার কোনো বিকল্প নেই। এটা আমরা যদি সামনের বছরে কাজ শেষ করতে না পারি, তাহলে আমাদের পক্ষে ঝুঁকি হয়ে যাবে রূপপুরের বিদ্যুৎ দেয়া।
গত সপ্তাহের গ্রিড বিপর্যয়ে আবারও আলোচনায় সঞ্চালন জটিলতা।
তড়িৎ বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, উৎপাদনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোয়নি সঞ্চালন ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাবেই তাই কার্যকর করা যায়নি পরিকল্পিত লোডশেডিংও।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলম বলেন, টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেশনের অভাব আছে, এই অবস্থায় সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে এবং মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া বিপর্যয় হচ্ছে এবং বিপর্যয়ের মূল ঝুঁকি হচ্ছে এ কারণে, অর্থাৎ কোঅর্ডিনেশনের অভাব, এটিই মূলত মৌলিক কারণ।
বুয়েট শিক্ষক বলেন, সমস্যাটা সামগ্রিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। কোথায় কতটুকু ঘাটতি আছে সেটা যে একেবারে অজানা তা নয়, এটা নিয়ে অনেক কাজ করার দরকার।
পুরো বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক স্মার্ট পদ্ধতিতে উন্নীত না করতে পারলে, ভবিষ্যতে বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও, শঙ্কা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ-প্রকৌশলীরা।
