হোম জাতীয় বিতর্কের চূড়ায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ

জাতীয় ডেস্ক :

পু‌লিশ সদস্যদের কর্মকা‌ণ্ডে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না ব‌রিশাল মে‌ট্রোপ‌লিটন পু‌লিশের। ব্ল্যাকমেইলিং থে‌কে শুরু ক‌রে বিচারপ্রার্থীকে ধর্ষণের মতো ঘটনায় অভিযুক্ত হ‌য়ে জেল হাজতে যে‌তে হ‌য়ে‌ছে উপপ‌রিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা‌দেরও। সুশীল সমাজ বল‌ছে, পু‌লিশ সদস‌্যদের শুদ্ধাচার প্রয়োজন ও আইনি সহায়তা নি‌তে আসা নারী‌দের নারীপু‌লিশ কর্মকর্তা‌র মাধ্যমে সেবা দেয়া উচিৎ। তবে পু‌লিশ প্রশাসন বল‌ছে, অপরাধ কর‌লে কাউকেই ছাড় দেয়া হ‌চ্ছে না।

গত ১৬ নভেম্বর স্কুল ও ক‌লেজ ছাত্রী‌দের জি‌ম্মি করে টাকা আদায়ের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক মে‌হেদী হাসানকে। গ্রেফতারের পরপরই আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এর আগে গত ২৬ সে‌প্টেম্বর পর্যটক‌দের আট‌কে অর্থ আদা‌য়ের ঘটনায় সাম‌য়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন তিনি।

শুধু পুলিশের উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান নয় গত অক্টোবর মাসে কোতোয়ালি ম‌ডেল থানার স্টিমার ঘাট পু‌লিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপ‌রিদর্শক আবুল বাশারও গ্রেফতার হন। মামলা সম্প‌র্কে জান‌তে আসা এক নারী‌কে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এর আগেও অসৌজন্যমূলক কাজের জন্য আবুল বাশারকে সাম‌য়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

একের পর এক পুলিশ সদস্যদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ ক‌রেছে স‌চেতন মহল। একই স্থা‌নে বছ‌রের পর বছর পু‌লিশ কর্মকর্তারা দা‌য়ি‌ত্বে থাকায় এ ধর‌নের অপরাধ বাড়‌ছে বলে মনে করছে সুশীল সমাজ।

সুজন সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, আর কোনো পুলিশ সদস্য যেন এমন কাজে জড়িয়ে না পরে সে জন্য ব্যাপক হারে শুদ্ধাচার প্রয়োজন। তবেই পুলিশ সদস্যরা অপরাধ থেকে দূরে থাকবে।

বেলার সমন্বয়ক লিংকন বা‌য়েন বলেন, পু‌লিশ সদস‌্যদের শুদ্ধাচারের পাশাপাশি আইনি সহায়তা নি‌তে আসা নারী‌দের নারী পু‌লিশের মাধ‌্যমে সেবা প্রদান করা উচিৎ। আমরা চাই পুলিশের কাছে সবাই নিরাপদ থাকুক।

ব‌রিশাল জেলা আইনজীবী স‌মি‌তির সাবেক সভাপতি তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, কিছু পুলিশ সদস্য নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কল‌্যাণসভাগু‌লো‌তে পু‌লিশ সদস‌্যদের সতর্ক করা হ‌য়ে‌ছে। যে কেউ এমন কাজে জড়ালে ছাড় দেয়া হবে না। কো‌নো পু‌লিশ সদস‌্য অপরা‌ধে জড়া‌লে সেটা তার ব‌্যক্তির দায়। পুলিশ প্রশাসন এ দায়ভার নিবে না।’

চল‌তি বছ‌র জেলায় নানা অপরাধে ২১ জন পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে । এছাড়া মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩ কর্মকর্তাকে ধর্ষণ ও জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তের পর গ্রেফতার করা হয়।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন