রিপন হোসেন সাজু, মনিরামপুর (যশোর) :
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে যাতায়াতের সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত নেতা-কর্মীদের অবস্থার খোঁজ নিতে মঙ্গলবার যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর এবং খুলনার ফুলতলায় আসেন। বাড়িতে ও হাসপাতালে নেতা-কর্মীদের দেখতে যাওয়ার পাশাপাশি উল্লিখিত স্থানগুলোতে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি।
এসময় তিনি বলেন, সারাদেশে বিএনপির সমাবেশে গণজাগরণ দেখে আওয়ামী লীগ ভীত হয়ে পড়েছে। একদিকে তারা (আওয়ামী লীগ) ও অপরদিকে পুলিশ বিএনপির দলীয় এ গণজাগরণ রুখতে চায়। যার কারণে খুলনার বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার পথে পথে হামলা করা হয়েছে। রিজভী বলেন, দেশের বর্তমান দৃশ্যে মনে হচ্ছে জনগণ শেখ হাসিনাকে ত্যাজ্য করেছে। তাই আজ যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই হাজারো মানুষের ভিড় দেখছি।
তিনি আরও বলেন, ২২ অক্টোবর খুলনায় বিএনপির সমাবেশ থেকে ফেরার পথে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ও প্রশাসন যৌথভাবে হামলা চালিয়ে যেসব নেতা-কর্মীর রক্ত ঝরিয়েছে সে রক্ত কখনও বৃথা যাবে না। সেইসব আহত নেতাকর্মী আরো তেজোদীপ্ত ও শক্তিশালী হয়ে গণতন্ত্র ফেরানো, গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, হারানো অধিকার ফিরে পাবার যে আন্দোলন চলছে সে আন্দোলনে সবাই শরীক হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি, অর্থ পাচার, ভোট ডাকাতি, লুটপাট ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনগণ ফুঁসে উঠেছে। ভাত ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছে। ফ্যাসিবাদি সরকার জনস্রোত রুখতে হামলা-মামলা ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। হামলা ও মামলা দিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না। সরকার পতন এখন সময়ে ব্যাপার মাত্র। রুহুল কবির রিজভীর সফরসঙ্গী ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বোয়ক ডা. আওয়াল হোসেন, যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খান ।
মনিরামপুরে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ মুছা, মনিরামপুর পৌর বিএনপির আহবায়ক খায়রুল ইসলাম মফিজুর রহমান, আবদুল হাই, মিজানুর রহমান, নিস্তার ফারুক, আসাদুজ্জামান মিন্টু, খান শফিয়ার রহমান, কাজী ইমরান প্রমুখ।
সমাবেশে আহত যুবদল নেতা সিরাজুল ইসলাম, মমতাজ উদ্দিন, আবদুর রহিম, কামরুল ইসলাম, আব্বাস উদ্দিন ও মিন্টুকে চিকিৎসার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। কেশবপুর নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানা বিএনপির আহ্বোয়ক মশিয়ার রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুস সামাদ বিশ্বাস, থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আলাউদ্দিন আলা, মাসুদুজ্জামান মাসুদ, হুমায়ুন কবীর সুমন, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি কুতুব উদ্দিন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম শহীদ, যুগ্ম সম্পাদক নুরুজ্জামান চৌধুরী, আবদুল হালিম অটলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তিনি আহত ১০ নেতা-কর্মীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজ নেন।
