রাজনীতি ডেস্ক:
সরকারের পরিকল্পনায় পুলিশ বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড করে বলে দাবি করেছেন বিএনপিপন্থি ১৮১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার কার্যালয়ের বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগপন্থি ৮১ বিশিষ্ট নাগরিকের দেয়া বিবৃতির প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে সোমবার (১৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে ১৮১ জন নাগরিক বলেছেন, আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট নাগরিকদের বিবৃতি আমাদের নজরে এসেছে। ওই বিবৃতি সম্পূর্ণ একপেশে। এর উদ্দেশ্য ২৮ অক্টোবরের ঘটনা সম্পর্কে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের বস্তুনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করা। পাশাপাশি প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে সরকার ও পুলিশের পক্ষে নির্লজ্জ সাফাই গাওয়া।
তারা বলেন, ওইদিন সরকারের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, ছররা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিএনপির শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশ পণ্ড করে দেয়। ওই সময় বিএনপি ও যুবদল কর্মী, একজন পুলিশ সদস্য ও একজন সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। আহত হন অসংখ্য মানুষ। এ ঘটনায় সরকার কয়েক দিনের মধ্যে কয়েকশ মামলা করে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ হাজার দশেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি কয়েক লাখ নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের আতঙ্কে রাখা হয়। নেতাদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে তাদের না পেয়ে সন্তানসহ স্বজনদেরও গ্রেফতার করা হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
বিএনপিপন্থি বিশিষ্ট এই নাগরিকরা বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো আরেকটি সাজানো নির্বাচনের যে নীলনকশা সরকারের ছিল, ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় তা পূরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষণে তা-ই উঠে এসেছে।
২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল উল্লেখ করে বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, সরকারের নানা উসকানির মুখে আগেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে বিএনপির কর্মসূচি হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। মহাসমাবেশ শেষে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যার যার ঘরে ফিরে যাবেন। অপরদিকে দলীয় সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরেকটি শাপলা চত্বর ঘটানোর এবং লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন। বিএনপি নেতাদের মাথায় ইউরেনিয়াম ঢেলে ঠান্ডা করার কথাও বলেছিলেন।
বিবৃতিদাতারা বলেন, মহাসমাবেশের দিন দেখা গেছে, মিন্টো রোড ও প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশে পুলিশের উপস্থিতিতেই কিছু তরুণ সবুজ রঙের লাঠি ও বৈঠা হাতে মহড়া দিয়েছেন এবং ভাঙচুর চালিয়েছেন। পুলিশ তাদের বাধা দেয়নি। পুলিশের সামনেই বিএনপির সভার পাশ দিয়ে গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের লাঠির বোঝা বহনকারী গাড়িবহর যায়। পুলিশ তাতেও বাধা দেয়নি।
তারা বলেন, ২৮ অক্টোবর পুলিশ ও সরকারের ক্যাডার বাহিনীর পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনা ঘটালেও আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট নাগরিকদের বিবৃতিতে সহিংসতার জন্য নানাভাবে বিএনপিকে দায়ী করা হয়েছে। ওইদিন পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করেছে বলেও সাফাই গাওয়া হয়। আমরা আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ হয়ে তাদের বিবৃতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দেশের চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।
আমরা আশা করি, ক্ষমতাসীনরা দেশের নাজুক অবস্থা উপলব্ধি করবে এবং বৃহত্তর স্বার্থে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম করবে।
বিবৃতিদাতারা হলেন: অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক তাজমেরি এস এ ইসলাম, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারি, আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, কায়সার কামাল, রুহুল কুদ্দুস, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সাবেক সচিব আবদুল হালিম, জয়নুল আবেদীন, ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিজন কান্তি সরকার, আবদুর রশিদ সরকার, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ।