আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
শক্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ, যার বড় প্রমাণ দৃশ্যমান সব মেগা প্রকল্প। এমনটাই অভিমত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্টজনদের। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে উচ্ছ্বসিত তারাও।
বাংলাদেশ সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে হিমালয় পর্বতের মতো মাথা উঁচু করে রয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প। এরপরই রয়েছে মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কয়লাভিত্তিক রামপাল থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর এবং চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ প্রকল্প।
স্বপ্নের এই প্রকল্পগুলো এখন দৃশ্যমান। নিজেদের অর্থায়নে তৈরি পদ্মা বহুমুখী সেতু শুধু বাংলাদেশের গর্ব নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ারও গর্ব। করোনা সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি যখন প্রায় অচল, তখনও শক্ত খুঁটির মতো মজবুত বাংলাদেশের অর্থনীতি। তারপরও ছড়িয়েছে নানা অপপ্রচার, কুৎসা।
অনেকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি মেলানোর চেষ্টা করছেন দেউলিয়া হওয়ার পথে থাকা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। তবে এ ধরনের সংকটের আশঙ্কা একেবারেই অমূলক এবং বাংলাদেশ শক্ত অর্থনীতির ওপরই দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্টজনরা।
এ বিষয়ে প্রকাশক ও লেখক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার মনে হয়, বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই সব উন্নয়ন করছে। শ্রীলঙ্কা বা নেপাল বাইরে থেকে ঋণ নিয়ে সেই আলোয় আলোকিত হয়েছে। যার ফলে হঠাৎ সব ভেঙে পড়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। কারণ, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এগিয়েছে।’
কলকাতা প্রেসক্লাবের সভাপতি স্নেহাশীষ সুর বললেন, ‘পদ্মা সেতু হয়ে গেলে যোগাযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি বাংলাদেশে শিল্প-বাণিজ্যও বাড়বে।’
অধ্যাপক ও গবেষক ইমানুল হকের মতে, ‘বাংলাদেশে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কমেছে, এটা সবচেয়ে বড় কথা। স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় উন্নতি করেছে। গড় আয়ু বেড়েছে ভারতের থেকে।’
বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলোকে দৃশ্যমান করাকেই সবচে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের বাণিজমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস।
উপহাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস বলেন, ‘আমাদের কাজ শুধু গর্বিত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না। আমাদের কাজ সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। বলা হচ্ছে, আমরা (বাংলাদেশ) এখন উন্নয়নের রোল মডেল। এটা আমরা সবার সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। ভারতও এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা সব সময় চাইব ভারতের সঙ্গে এগিয়ে যেতে।’
বাণিজমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের বড় অর্জন। সবচেয়ে বড় কথা এটা আমাদের নিজেদের টাকায় করা, যেটা আমাদের সাহসিকতা, উদ্যোগ এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। সব মিলিয়ে এটা আমাদের বড় ধরনের স্বাক্ষর।’
বাংলাদেশ তার নিজের গতি, শক্তি আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে আগামীর পথে এগিয়ে যাবে, এমনটাই বিশ্বাস বিশিষ্টজনদের।
