আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চাঁদ দেখা যাওয়ায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোজা পালন শুরু করেছেন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের মুসল্লিরা। ২৯ বা ৩০ দিনের পবিত্র রমজান মাসে মুসল্লিরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আহার ও পানাহার থেকে বিরত থাকবেন। ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত এই সময় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
দিনের আলোর স্থায়িত্ব বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেহেতু উত্তর গোলার্ধে এখন শীতকাল, তাই সেখানে বসবাসকারীরা এবারের রমজানে সবচেয়ে কম সময়ের রোজা রাখবেন। প্রথম দিন তাদের রোজার সময় হবে প্রায় সাড়ে ১১ থেকে ১৩ ঘণ্টা। যা দিনে দিনে বাড়তে থাকবে।
অন্যদিকে চিলি, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর বাসিন্দাদের দীর্ঘতম রোজা রাখতে হবে। প্রথম দিনে এর স্থায়িত্ব হবে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা। তবে মাসজুড়ে রোজার সময় ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।
রমজানের প্রথম দিনে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মুসল্লিরা ১৫ ঘণ্টা ২২ মিনিট ধরে রোজা রাখবেন। চিলির পুয়ের্তো মন্টে এর ব্যাপ্তি ১৫ ঘণ্টা ১৩ মিনিট। অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ১৪ ঘণ্টা ৪৮, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ১৪ ঘন্টা ১৩ মিনিট, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ১৩ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ১৩ ঘণ্টা ১১ মিনিট, শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় ১৩ ঘণ্টা ৬ মিনিট, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ১২ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট, সৌদি আরবের রিয়াদে ১২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট, কাতারের দোহা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, বাংলাদেশের ঢাকায় ১২ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট এবং ভারতের নয়াদিল্লিতে ১২ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট রোজা রাখতে হবে।
এছাড়া, ফিলিস্তিনের গাজা সিটিতে ১২ ঘণ্টা ৩১ মিনিট, আফগানিস্তানের কাবুল, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ১২ ঘণ্টা ২৯ মিনিট, জাপানের টোকিওতে ১২ ঘণ্টা ২৭ মিনিট, ইরানের তেহরানে ১২ ঘণ্টা ২৫ মিনিট, পর্তুগালের লিসবনে ১২ ঘণ্টা ২৩ মিনিট, ইতালির রোম ও চীনের বেইজিংয়ে ১২ ঘণ্টা ১৯ মিনিট, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ১২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট, ওয়াশিংটন ডিসিতে ১২ ঘণ্টা ৯ মিনিট, নিউইয়র্কে ১২ ঘণ্টা ৫ মিনিট, যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ১২ ঘণ্টা ১ মিনিট, কানাডার অটোয়ায় ১১ ঘণ্টা ৫৮ মিনিট, সুইডেনের স্টকহোমে ১১ ঘণ্টা ৫২ মিনিট এবং ফ্রান্সের প্যারিসে রোজা রাখতে হবে ১১ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট ধরে।
প্রতিবছর রমজান মাস তার আগের বছরের তুলনায় ১০ থেকে ১২ দিন এগিয়ে আসে। এর কারণ হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জি চন্দ্রনির্ভর হিজরি ক্যালেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। যেখানে মাসগুলো ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে।
বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ যারা উত্তর গোলার্ধে বসবাস করেন, তাদের জন্য এ বছর রোজার সময় কিছুটা কম হবে এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই সময় কমতে থাকবে। ২০৩১ সালে রমজান মাসটি ‘উইন্টার সোলস্টাইস’ বা বছরের সবচেয়ে ছোট দিনের কাছাকাছি সময়ে পড়বে।
অন্যদিকে, বিষুবরেখার দক্ষিণে বসবাসকারী রোজাদার মুসল্লিদের জন্য রোজার সময় গত বছরের তুলনায় দীর্ঘতর হবে।
চন্দ্রবছর সৌরবছরের তুলনায় ১১ দিন কম হওয়ায়, ২০৩০ সালে দুইবার রমজান মাস পালিত হবে। প্রথমবার শুরু হবে ৫ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয়বার শুরু হবে ২৬ ডিসেম্বর।
