খেলাধূলা ডেস্ক :
চার বছর আগে নিদাহাস ট্রফির সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে মাঠেই নাগিন ড্যান্স নেচেছিল বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। এবার এশিয়া কাপের মঞ্চে সেই হারের বদলা তো নেয়াই হলো, সঙ্গে নাগিন ড্যান্স নেচে চার বছর আগের সেই প্রতিশোধও নিল শ্রীলঙ্কা।
সুপার ফোরের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে দুবাইয়ে বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। ভারত-পাকিস্তানের পর সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ার অন্যতম মহারণ হয়ে উঠেছে বাঘে-সিংহের লড়াই। দুবাইয়ের মাঠেও সেই ঝাঁঝ পাওয়া গেল আরেকবার। এশিয়া কাপের অন্যতম সেরা রোমাঞ্চকর এক ম্যাচই দেখতে পেল এদিন ক্রিকেট বিশ্ব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে জয়ের পাল্লাও একবার একেক দিকে দুলছিল। কখনো বাংলাদেশের পক্ষে কখনো আবার শ্রীলঙ্কার দিকে।
ব্যাট হাতে মিরাজ-আফিফদের দারুণ শুরুর পর বল হাতেও দাপুটে শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। অভিষিক্ত এবাদত হোসেন নিজের প্রথম দুই ওভারেই মাত্র ১৩ রান দিয়ে তুলে নিয়েছিল দুটি উইকেট। শেষদিকে শ্রীলঙ্কার জন্য জয়টা একপ্রকার অসম্ভবই মনে হয়েছিল। তবে ওয়াইড-নো বলের মহড়া আর ডেথ ওভারে পেসারদের খেই হারানো বোলিংয়ে জেতা ম্যাচটাও হাত ফসকে গেছে বাংলাদেশের। সুপার ফোরের স্বপ্নভঙ্গ করে মাত্র তিন দিনেই এশিয়া কাপ যাত্রা সাঙ্গ হয়েছে সাকিব বাহিনীর।
স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার যন্ত্রণা নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যখন ড্রেসিংরুমের পথে, একখণ্ড বাংলাদেশে রূপ নেয়া দুবাই স্টেডিয়ামের গ্যালারি যখন শোকস্তব্ধ তখন ভিন্ন সুর লঙ্কান শিবিরে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে শেষ চারে উঠে উল্লাসে মত্ত লঙ্কান গুটিকয়েক সমর্থক। তখনই ক্যামেরার চোখ লঙ্কান ড্রেসিংরুমে, নাগিন নাচ নাচছেন দলের ক্রিকেটাররা। বদলা নিল শ্রীলঙ্কা। চার বছর আগে ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফির সেমিফাইনালে কলম্বোর অভিশাপ তারা ফিরিয়ে দিল দুবাইয়ে।
এবার মুখোমুখি লড়াইয়ে নামার আগে কথার লড়াইয়েও ঝাঁঝ ছিল দুই দলের। শুরুটা করেছিলেন লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা। তার জ্বালিয়ে দেয়া আগুনেই ঘি ঢাললেন টাইগার টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন। শেষমেশ বাগ্যুদ্ধে শামিল হলেন শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি ব্যাটার মাহেলা জয়াবর্ধনে।
শানাকা বলেছিলেন, বাংলাদেশে সাকিব-মুস্তাফিজ ছাড়া ভালো কোনো বোলারই নেই এবং আফগানিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ সহজ প্রতিপক্ষ বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। শানাকার বিরূপ মন্তব্যে খেপেছেন টাইগার টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন। সুজন বলেন, ‘আমি জানি না শানাকা কেন এমন বলেছে। আমি শুনেছি যে সে বলেছে, বাংলাদেশের সাকিব ও মুস্তাফিজ ছাড়া বোলার নেই। আমি তো শ্রীলঙ্কার কোনো বোলারই দেখি না। আমাদের অন্তত দুজন আছে।’
সুজনের বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ রিটুইট করে লঙ্কান কিংবদন্তি জয়াবর্ধনে লিখেছেন, ‘শ্রীলঙ্কার বোলারদের মাঠে নিজেদের ’ক্লাস’ দেখানোর এবং ব্যাটসম্যানদেরও মাঠে নিজেদের জাত চেনানোর এটাই মোক্ষম সময়।’ শেষমেশ মাহেলার কথা রাখলেন তার দেশের ক্রিকেটাররা। কথার লড়াইয়ের পর বাইশ গজে জবাবটা দিলেন তারাই।
