বাণিজ্য ডেস্ক :
বর্ষায় পদ্মা-যমুনাসহ বিভিন্ন নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নৌকার চাহিদা বেড়েছে। এতে জমে উঠেছে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ২০০ বছরের নৌকার হাট। তবে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে দামও। এতে ক্রেতারা অসন্তুষ্ট হলেও খুশি ব্যবসায়ীরা।
সারি সারি ডিঙি নৌকায় ভরা মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ঘিওর হাট। সপ্তাহের প্রতি বুধবার ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় জমে ওঠে ২০০ বছরের পুরোনো এ নৌকার হাট। কারিগর ও ব্যবসায়ীরা দূর-দূরান্ত থেকে বাহারি ডিজাইনের নৌকা নিয়ে এখানে ছুটে আসেন।
পদ্মা-যমুনা, ইছামতী, কালীগঙ্গা, ধলেশ্বরীসহ আশপাশের জেলায় পানি বৃদ্ধির ফলে বেড়েছে নৌকার চাহিদা। তবে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা সন্তুষ্ট হলেও হতাশ ক্রেতারা।
নৌকা কিনতে আসার বিষয়ে ক্রেতারা বলেন, বন্যার পানি অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। বাড়ির চারপাশে পানি। এতে আমাদের চলাফেরায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য নৌকা কিনতে এসেছি। তবে নৌকার দাম অনেক বেশি। আজ যে নৌকা ৪ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি, গত হাটে সেটি ৩ হাজার টাকা ছিল। অত্যধিক পানির কারণে নৌকার দাম বেড়ে গেছে। তাই আমাদের বেশ সমস্যা হচ্ছে।
এদিকে দিন দিন হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ায় জায়গা সংকটে ভুগছে হাট কমিটি। ঘিওর হাট কমিটির সভাপতি মো. হামিদুর রহমান আলাই বলেন, ঘিওর হাটের অবস্থা বেশ খারাপ। সেখানে বৃষ্টি নামলেই যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হয়ে যায়। বাজারের ভেতর চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে অনেক চেষ্টা করেও আমরা হাটের অবস্থা পরিবর্তন করতে তেমন কোনো কাজ করতে পারছি না। যার জন্য আগের মতো এখানে আর ক্রেতা আসেন না। তাই আমি চাই, ঘিওরের ঐতিহ্য ফিরে আসুক। একটি উন্নয়নমূলক কাজ হলে আমাদের সেই ঐতিহ্য ফিরে আসবে।
উল্লেখ্য, প্রতি হাটে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রকারের ডিঙি নৌকা বেচাকেনা হয়।
