বাণিজ্য ডেস্ক :
বনে নয়, এবার বাঘ দাপিয়ে বেড়াবে সড়কেও। কি অবাক হচ্ছেন? দীর্ঘ চার বছরের নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতার খাতায় নাম লেখাল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পরিবেশবান্ধব গাড়ির নাম দেয়া হয়েছে ‘বাঘ’। যার বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সোলার কার, ভ্যান, ট্যাক্সি ও মোটরসাইকেল প্রদর্শন করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাঘ ইকো মটরস।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এসব গাড়িতে এসিড চালিত ব্যাটারির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। ট্যাক্সিগুলো একবার চার্জ দিলে ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার গতিতে চলবে ৯০ কিলোমিটার। প্রাইভেটকার ও পিকআপ যাবে ১৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এ ছাড়া ছাদে থাকা সৌর প্যানেলের সাহায্যে চলবে আরও ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির এই জ্বালানি ব্যবস্থায় গতি বাড়ানো হলেও অতিরিক্ত শব্দ তৈরি হবে না। এ্যান্টি-লক ব্রেক সিস্টেম থাকায় চূড়ান্ত মুহূর্তে গাড়িটি সর্বোচ্চ তিন ফুট দূরত্বের মধ্যে সম্পূর্ণ থেমে যাবে।
যেকোনো দূরত্ব থেকে যানটি তদারকির জন্য আছে নিজস্ব অ্যাপ। এটি যানটির যাবতীয় অবস্থা সম্পর্কে এর ব্যবহারকারীকে জানান দিবে। গাড়ির চারপাশ সার্বক্ষণিক মনিটরিং-এর জন্য আছে নাইট ভিশন ক্যামেরা, যেগুলো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে পারে। অ্যাপের মাধ্যমে এই ক্যামেরাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে ২৪ ঘণ্টা গাড়িটিকে দেখাশোনার মধ্যে রাখা যাবে। গাড়িতে থাকা জিপিএস যে কোন জায়গা থেকে একে ট্র্যাক করতে সাহায্য করবে। যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে প্যানিক বাটন। এতে চাপ দিলে গাড়ি যে গতিতেই থাকুক না কেন, সঙ্গে সঙ্গেই ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার গতিতে নেমে আসবে। একই সঙ্গে গাড়িটির সঙ্গে যুক্ত থাকা কন্ট্রোল সেন্টারে সংকেত চলে যাবে এবং সেখান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটিকে স্থায়ীভাবে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারবে।
যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য গাড়ির ভেতরে রয়েছে মিনি টেলিভিশন, ওয়াইফাই ও মোবাইল ফোন চার্জ দেয়ার ব্যবস্থা। থ্রি হুইলার গাড়িগুলো কিনতে খরচ হবে ৭ লাখ টাকা; ফোর হুইলার প্রাইভেটকার ১৫ লাখ এবং পিকআপ কিনতে খরচ পড়বে ১৮ লাখ টাকা।
এসব গাড়ি চার্জ দেয়ার জন্য প্রায় ৪শ’টি বড় চার্জিং স্টেশন এবং ৫ হাজার মিনি চার্জিং স্টেশন থাকবে।
