শিক্ষা ডেস্ক :
দেশে এক সময় প্রায় ৪৫০ প্রজাতির প্রজাপতি পাওয়া যেত। যার মধ্যে ১১০ প্রজাতির প্রজাপতির আবাস ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে তা ৫২ প্রজাতিতে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রজাপতি গবেষক অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ঝোপঝাড়, লতাগুল্ম ধ্বংস করার কারণে প্রজাপতির আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে গেছে। এক বছরের ব্যবধানে ৮ প্রজাতির প্রজাপতি হারিয়ে গেছে। গত বছর এসময়ে ৬০ প্রজাতির প্রজাপতির দেখা পাওয়া গেছে।
বুধবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন এসব তথ্য জানান।
আগামী শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রজাপতি মেলা-২০২২ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রজাপতি সংরক্ষণ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ‘কীটতত্ত্ব’ শাখার আয়োজনে দিনব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের স্লোগান ‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’।
মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রজাপতি পরিবেশে পরাগায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এ ব্যাপারে আমাদের সচেতনতা অনেক কম। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের জায়গাটা তুলে ধরার জন্য এ মেলার আয়োজন করা হয়।
প্রতি বছরের মতো এবারও মেলায় থাকছে শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতি বিষয়ক ছবি আঁকা ও কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী, জীবন্ত প্রজাপতি প্রদর্শন, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা। এছাড়াও থাকছে প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা, বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, পুরস্কার বিতরণ এবং সমাপনী অনুষ্ঠান।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভেতরে জীবন্ত প্রজাপতি দর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিশুদের আনন্দ দেয়ার জন্য নতুন করে ‘পাপেট শো’র আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যতিক্রমী এই প্রজাপতি মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে মহামারীর কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২০ সালে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। এবার ১২তম আসর আয়োজিত হতে যাচ্ছে। এ মেলা উন্মুক্ত থাকবে সবার জন্য।
