হোম ঢাকা বইমেলায় কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই, আছে কয়েক স্তরের সুরক্ষা বলয়: ডিএমপি

বইমেলায় কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই, আছে কয়েক স্তরের সুরক্ষা বলয়: ডিএমপি

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 48 ভিউজ

নিউজ ডেস্ক:
আসন্ন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বা শঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার এই তথ্য জানান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ শুরুকে কেন্দ্র করে এইসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি না থাকলেও পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে এবং ৩০০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে মেলা প্রাঙ্গণ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করবেন।

ডিএমপির নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেলা প্রাঙ্গণে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ প্রতিটি স্তরে নিটোল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের মেলায় প্রবেশের সময় মেটাল ডিটেক্টরের পাশাপাশি ম্যানুয়েল চেকিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

ধারালো অস্ত্র, বিস্ফোরক বা দাহ্য পদার্থ নিয়ে মেলায় প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ডগ স্কোয়াড দিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকা নিয়মিত তল্লাশি করা হবে এবং নারী ও শিশুদের জন্য থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন বইয়ের বিষয়েও পুলিশের নজরদারি থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন যে, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এই বিষয়টি নিবিড়ভাবে মনিটর করবে। এবারের মেলা আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে, তবে রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিনগুলোতে মেলা শুরু হবে বেলা ১১টা থেকে। মেলায় হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র ফেরত দেওয়ার জন্য বিশেষ বক্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যানবাহন চলাচল ও পার্কিং ব্যবস্থার বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মেলা চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজু ভাস্কর্য এলাকায় কোনো ভারী যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তবে টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তাটি সবসময় বন্ধ না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী সময়ে সময়ে খোলা রাখা হবে।

দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মহসিন হল মাঠ, ফুলার রোড, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে মেলার সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন