হোম আন্তর্জাতিক ফ্রান্সের দুই পণ্যের ওপর ২০০ ভাগ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

ফ্রান্সের দুই পণ্যের ওপর ২০০ ভাগ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 40 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’- এ ফ্রান্স যদি যোগ না দেয়, তাহলে ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেইনের ওপর শতকরা ২০০ ভাগ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছ থেকে পাওয়া একটি ব্যক্তিগত বার্তাও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দ্য ইকোনোমিক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে বিদ্রুপ করেছে প্যারিস। ট্রাম্প ডেনমার্কের অধীনে থাকা আর্কটিক ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ডের প্রতি এত আগ্রহী এ নিয়ে কথা বলেছে দেশটি। এরপরই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে এই তীব্র আক্রমণ শুরু করেন ট্রাম্প।

বোর্ড অব পিস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি তার (ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ) ওয়াইন আর শ্যাম্পেইনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাবো। তখন তিনি যোগ দেবেন। তবে না দিলেও আমার কিছু যায় আসে না। মূলত যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের তদারকির জন্য এই বোর্ডের ধারণা দেওয়া হলেও এর ঘোষণাপত্রে কেবল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেই এর ভূমিকা সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি।

পরে ম্যাক্রোঁর পাঠানো একটি ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। সেখানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ইরান ও সিরিয়া ইস্যুতে দু’জনের মধ্যে মতৈক্য রয়েছে। তবে ট্রাম্প ‘গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কী করছেন’ তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

ম্যাক্রন আরও প্রস্তাব দেন, দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে তিনি ট্রাম্প ও অন্যান্য জি৭ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে চান। সেখানে ইউক্রেন, ডেনমার্ক, সিরিয়া ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। এমনকি বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে নৈশভোজে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।

ম্যাক্রনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, এই বোর্ডের কাঠামো শুধু গাজার সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এদিকে গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে ফ্রান্স প্রকাশ্যেই কটাক্ষ করেছে। এক্সে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের বক্তব্যের জবাবে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হয়। সেখানে তুলনা টেনে বলা হয়, যদি কোনো দিন আগুন লাগে, দমকল বাহিনী তো হস্তক্ষেপ করবেই, তাহলে আগেভাগেই বাড়িটা পুড়িয়ে দেয়া ভালো! আরও বলা হয়, কোনো দিন হাঙর আক্রমণ করতে পারে। তাহলে এখনই লাইফগার্ডকে খেয়ে ফেলা ভালো! ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তাহলে এখনই গাড়িটাকে ধাক্কা মেরে দেয়া ভালো!

এর আগে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নীতির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছিলেন বেসেন্ট, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হুমকিই ট্রাম্পের উদ্বেগের মূল কারণ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আর্কটিক নিয়ে লড়াই অনিবার্য। আমরা ন্যাটো অঙ্গীকার বজায় রাখব। গ্রিনল্যান্ডে যদি রাশিয়া বা অন্য কোনো পক্ষ হামলা চালায়, তাহলে আমাদের এতে জড়িয়ে পড়তেই হবে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন