হোম আন্তর্জাতিক ফের বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান!

ফের বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান!

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 37 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবশেষ বৈঠকটি শেষ হয়েছে কোনো চুক্তি ছাড়াই। তবে দুই দেশের প্রতিনিধিদল ফের বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ও সাংবাদিক হামিদ মির। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) রাতে সংবাদমাধ্যমটির এক অনুষ্ঠানে শেহজাদ ইকবালের সঙ্গে আলাপে হামিদ মির বলেন, ‘আমরা বলতে পারি না যে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে, কারণ এক বা দুই বৈঠকে কোনো বড় সমাধান আসে না।


তিনি বলেন, নতুন বৈঠকের সময় ও স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

উভয় পক্ষের সূত্রের বরাত দিয়ে হামিদ মির বলেন, মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের দীর্ঘ আলোচনার শেষে কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিজ নিজ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘তারা কোন কোন বিষয়ে একমত হয়েছে তা প্রকাশ করতে রাজি হয়নি, তবে আমরা কিছু বিষয় বুঝতে পেরেছি।’

হামিদ মিরের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার শেষ পর্যায়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানি প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান তিনি বিষয়গুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

তিনি বলেন, মিডিয়ায় কোনো ঘোষণা দেয়া হবে না, আবার বৈঠক হতে পারে।
হামিদ মির আরো বলেন, ‘আমাদের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদের আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত ফল না এলেও উভয় পক্ষ আবারও বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে। তার সময় ও স্থান পরে নির্ধারণ করা হবে।’

যুদ্ধবিরতির বিষয়ে জিও নিউজের এই বিশ্লেষক আরো জানান, বর্তমান যুদ্ধবিরতি দুই সপ্তাহের জন্য হওয়ায় সেটি বাড়ানোর বিষয়ে পরোক্ষ যোগাযোগ চলছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রবিবার (১২ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক উপায়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘কূটনীতি কখনোই শেষ হয়ে যায় না’। তার এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে বর্তমান সংকট নিরসনে তেহরান এখনো আলোচনার টেবিলে থাকার পক্ষে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও আলোচনার টেবিলে চিত্রটি ভিন্ন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে মীর জানান, ইউরেনিয়াম ইস্যুতে উভয় পক্ষই একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতিবাচক কথা বলেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ইউরেনিয়াম এবং হরমুজ প্রণালি—উভয় ক্ষেত্রেই দুই পক্ষ একটি ‘মধ্যপন্থা’ বা উইন-উইন অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।
২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার একটি বড় অংশ ব্যয় হয়েছে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে। ইরান পক্ষ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, লেবানন ও হিজবুল্লাহর ইস্যুতে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না। মীর বলেন, ‘ইরান হিজবুল্লাহ ও হামাসকে এই বার্তা দিতে চায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির তাড়নায় তারা তাদের মিত্রদের পরিত্যাগ করেনি।’ অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স এ বিষয়ে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল-লেবানন আলোচনার আয়োজন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্যগুলোকে মীর মূলত ‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতি’ বা ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের কৌশল বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, আলোচনার টেবিলে যা ঘটছে এবং ট্রাম্প জনসম্মুখে যা বলছেন, তার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।

মীর আরো বলেন, ‘আলোচনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা ট্রাম্প ভালো করেই জানেন; তার প্রকাশ্য মন্তব্যগুলোকে উপেক্ষা করাই শ্রেয়।’

জিও নিউজের তথ্য মতে, বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে পাকিস্তান, তুরস্ক ও চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দুই সপ্তাহ পর এই মেয়াদ আরো বাড়ানোর জন্য পরোক্ষ যোগাযোগ রক্ষা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো আশাবাদী যে, বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটলে এই প্রক্রিয়াটি একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে মোড় নিতে পারে।

পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপর চলমান সংঘাতের অবসানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সময় গত শনিবার (১১ এপ্রিল) এই আলোচনা শুরু হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষ হয় রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন