খুলনা অফিস :
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান ১০ বছর ২ মাস একাডেমিক, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়ে সাফল্যের স্বীকৃতি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩.১৫ মিনিটে শত শত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারির উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। এর আগে সকাল থেকেই তিনি শেষ কর্মদিবসে নানা অনুষ্ঠান, সভায় যোগদান ও উদ্বোধন প্রক্রিয়ায় ব্যস্ততম সময় অতিবাহিত করেন। বিকেল তিনটার আগেই একে একে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারিসহ শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর আবাসিক ভবনের দিকে যেতে থাকেন। বাসভবন ও বাইরে সমাবেশ ঘটে কয়েক’শ মানুষের।
অপেক্ষায় থাকেন তারা। বিকেল ২.৫৫ মিনিটে তিনি বাসভবন থেকে বের হতেই তাঁকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অনেকে। বাসভবন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটক পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারিরা তাঁকে বিদায়ী সালাম ও শুভেচ্ছা জানান। বেলা ৩.২মিনিটে তিনি প্রধান ফটকে পা রেখেই তাঁর এক সময়কার শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জনের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করেন।
এ সময় তিনি আবেগে, শ্রদ্ধায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। একই সময় একের পর এক শিক্ষক, কর্মকতা, কর্মচারি উপাচার্যকে জড়িয়ে ধরে, হাত ধরে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন এ দিনটি আমার জীবনের স্মরণীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শত শত শিক্ষার্থী আমাকে বিদায় জানাতে এসেছেন এটা অভ‚তপূর্ব। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেনো এ ধারা অব্যাহত থাকে এবং দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে চলতে পারলে এ বিশ্ববিদ্যালয় সম্ভাবনার পথে, সাফল্যের পথে বহুদূর এগিয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, বিভাগীয় প্রধান উপাচার্যের গাড়ির সাথে বিশাল গাড়ীবহরের যাত্রায় অংশ নেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে কোনো উপাচার্যের বিদায়কালে এমন সুখকর দৃশ্যের আবির্ভাব ঘটেনি।
এর আগে সকাল ৯টায় তিনি নগরীর বয়রাস্থ খুবি’র চারুকলা ইনস্টিটিউটের জায়গায় ১১ তলা বিশিষ্ট শহিদ বুদ্ধিজীবী ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী আবাসিক ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। সকাল ১০টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন। এরপর বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান ও বিভাগীয় প্রধানদের সাথে একাডেমিক বিষয় নিয়ে শেষবারের মতো মতবিনিময় করেন।
পরে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত ‘শতবর্ষে বঙ্গবন্ধু’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। পরে তিনি কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে জিনোম ল্যাব উদ্বোধন করেন। দুপুর থেকেই তাকে ফুল দিয়ে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের ও বাইরের বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন, ডিন, ডিসিপ্লিনসহ বিভিন্ন মহল তাঁর দপ্তরে আসেন।
s
