হোম অন্যান্যসারাদেশ ফকিরহাটে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কলাগাছের তৈরী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন

মান্না দে, ফকিরহাট (বাগেরহাট) :

সরকারিভাবে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের নির্দেশ থাকলেও বাগেরহাটের ফকিরহাটে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়ে উঠেনি শহীদ মিনার। ফলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দিবসটি ভালোভাবে পালন করতে পারছে না। ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর পার হলেও এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার না থাকায় একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করা হয় কলাগাছ কাগজ দিয়ে সাজিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে কিংবা পাশের কোনো প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ছাত্র-ছাত্রীরা।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফকিরহাটে মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে শহীদ মিনার থাকলেও অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনও শহীদ মিনার গড়ে উঠেনি। সচেতন অভিভাবকরা

শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্থায়ী কিংবা অস্থায়ীভাবে স্কুলের পক্ষ থেকে শহীদ মিনার নির্মাণ না করায় বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করার সুযোগ থেকে বিরত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। যে কারনে একইভাবে ৫২ এর ভাষা আন্দোলন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারির গুরত্ব সম্পর্কেও সঠিক ধারণা নিতে পারছে না। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব তহবিলের অর্থায়নে শহীদ মিনার নির্মান করেছে।

অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, নিজস্ব তহবিলে অর্থাঅভাবের কারনেই শহীদ মিনার নির্মান করতে পারছেন না। এখনো পর্যন্ত যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরী নেই সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা মাতৃভাষা দিবস, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় খোলা ইট ও কলাগাছ দিয়ে তৈরী শহীদ মিনারের উপর নির্ভর করে। এসব দিবসের আগে দেখা যায়, কলাগাছ ও ইটের পর ইট রেখে শহীদ মিনার তৈরী করা হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, একুশে ফেব্রুয়ারি দিন সকালে মানসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ অনেক প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কলাগাছ দিয়ে তৈরী করা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানায় শিক্ষার্থীরা।

ফকিরহাট উপজেলাস্থ নির্মিত স্থায়ী শহীদ মিনার ছাড়া যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠা এখনো শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি সেকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কৃতিম স্মৃতিসৌধ তৈরী করে তারা মাল্যদান করে থাকে।

ছাত্রছাত্রীদের ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর এ প্রক্রিয়া মায়ের ভাষার প্রতি অপার ভালোবাসা যেমন ফুটে উঠেছে, তেমনি ভাষা শহীদদের স্মৃতির মিনার প্রতিষ্ঠায় সরকারী ও বে-সরকারী প্রাতিষ্ঠানিক দৈন্যতার চিত্রও ফুটে উঠেছে। সূত্র জানায়, সরকারীভাবে কোন বরাদ্ধ না থাকায় এসব স্কুলে শহীদ মিনার নির্মান করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে ইতিমধ্যে অনেক বিদ্যালয়ে নিজস্ব অর্থায়নে শহীদ মিনার নির্মান করার উদ্যোগ গ্রহনও করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার নন্দী বলেন, যে সকল বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই তাদের অবিলম্বে মঞ্চদি মিনার তৈরী করার জন্য জানানো হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীস কুমার বিশ্বাস জানান, সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তারা ভাষা দিবসে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পন করে থাকেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন