আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন আবারও দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের ঘোষণা দিলেন। শুক্রবার (২৪ জুন) দলীয় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। ধারণা করা হচ্ছে, আবারও ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাবে দেশটি। খবর আল-জাজিরা।
কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা যেন কোনোদিনই শেষ হওয়ার নয়। এ বছর ১৮টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। পাল্টা জবাবে দক্ষিণ কোরিয়াও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। এ অবস্থায় শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দেন। শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন তিনি।
কিমের এ ঘোষণা থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তারা ধারণা করছেন পিয়ংইয়ং যেকোনো সময় পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে পারে। আর তা যদি হয়, কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা আরও বাড়বে।
সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর জেরে উত্তেজনা বেড়েছে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জবাবে ৬ জুন যৌথভাবে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে এবার পিয়ংইয়ংকে সরাসরি হুমকি দিল ওয়াশিংটন।
৭ জুন সিউলে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ওয়েন্ডি শারম্যান ও দক্ষিণ কোরিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিয়ন ডং উপস্থিত হয়েছিলেন। এ সময় পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শারম্যান বলেন, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালে ভয়াবহ পরিণাম ভোগ করতে হবে।
উত্তর কোরিয়া যখন পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা নিয়ে ভাবছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সাধারণ জনগণ তখন বিক্ষোভ করছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাডের বিরুদ্ধে। সিউলে প্রেসিডেন্সিয়াল কার্যালয়ের কাছে এ বিক্ষোভে অংশ নেন সাধারণ কোরীয় এবং পরিবেশবিদরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি এতে কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা কমবে না উল্টো বাড়বে। তারা বলছেন এটি অবৈধ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে অটল।
