হোম ফিচার পেরিফেরি ভুক্তির ১৩ বছর পরেও আশাশুনি সদর বাজার ব্যবস্থা চরম অবহেলিত

এম,এম সাহেব আলী, আশাশুনি :

পেরিফেরি ভ‚ক্তির ১৩ বছর পরেও আশাশুনি বাজার ব্যবস্থা চরম অবহেলিত। গড়ে ওঠেনি বড় কোন দোকানপাট, বেড়েছে শুধু চায়ের দোকান ও সেলুন। একটি সংযোগ সড়কের অভাব ও বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আশাশুনির প্রানকেন্দ্র সদর বাজারটি চরম অবহেলায় রয়েছে। শৌচাগার দুটির একটি অকেজো অন্যটি তালাবদ্ধ থাকে সাধারনের ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই। বাজারে কসাইখানা নেই শুরু থেকেই।

বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান স ম সেলিম রেজা মিলন বলেন নদীর ধারে একটি স্থানে নতুন করে জায়গা নির্ধারণ করা হলেও সেখানে এখনও কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে শৌচাগারের সেপ্টি ট্যাংকির উপর অতি নোংরা পরিবেশে গরু, ছাগল জবেহ করা হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দোকানিরা জানান।

বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মফিজুল ইসলাম লিংকন,সহসভাপতি ডাঃ কামরুজ্জামান ও সাধারন সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাবু জানান-২০০৮ সালে আশাশুনি বাজারটি পেরিফেরি ভ‚ক্ত হয়। সে সময় বাজারে প্রায় ৪শ দোকান ছিল। ওই বছরই ফকরুদ্দীন সরকার বাজারের সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করতে রাস্তার ধারে থাকা শতাধিক দোকান ভেঙে ফেলে।

পেরিফেরিভুক্ত এলাকার সকল দোকানের ছাঁদ ভেঙে ফেলে বাজারটি একদম ধ্বংসস্তুপে পরিনত করে। প্রায় ৩ মাস বাজারে তেমন কোন বেচাকেনা হয়নি। এরপর ব্যবসায়ীরা যখন আবার ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করে ঠিক তখনি গতবছর মানিকখালী ব্রীজ উদ্বোধন করা হয় সদর বাজারে কোন সংযোগ সড়ক ছাড়াই।

এর আগে চাপড়া বাসষ্ট্যান্ড থেকে যাত্রীরা ভ্যানযোগে সদর বাজার ঘুরে ১ কি.মি. দুরে মানিকখালী খেয়াঘাটে চলে যেত। ব্রীজ নির্মান হওয়ার পর বেশিরভাগ সময় বাসষ্ট্যান্ড থেকে ইজিবাইক অথবা ব্যাটারিচালিত ইঞ্জিন ভ্যান যোগে দ্বিগুন ভাড়া দিয়ে প্রায় বাজার থেকে দুরে সাড়ে ৪ কি.মি. সংযোগ সড়ক ঘুরে মানিকখালী সেতুতে উঠে সেখান থেকে অন্যান্য স্থানে যায়। ফলে এসব যাত্রীরা আর আশাশুনি বাজারের উপর দিয়ে যায়না বলে বেচাকেনা এক প্রকার নেই বললেই চলে।

এত সমস্যার মধ্যে একটি নিরাপত্তা বা সস্তির জায়াগা হলো বাজারের বিভিন্ন দোকানের বকেয়া আদায়ের জন্য আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম কবির আমাদের খুব সহযোগিতা করেন। বণিক সমিতিন সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাবু বলেন- বাজারের ছোট ছোট রাস্তাগুলো নির্মান করতে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুই বছর আগে রাস্তা খুঁড়ে ইট তুলে বালি আর ইটের খোয়া ফেলে চলে যায়। এরপর থেকে আর তাদের দেখা যায়নি।

পাশে ড্রেন করা হলেও রাস্তার শেষ না হওয়ায় ড্রেনে কোন পানি যায় না বরং রাস্তায় জমে কাদাপানিতে একাকার হয় সাধারণ ক্রেতারা। বাজারে শৌচাগার আছে দুটি। দক্ষিণ পাশেরটি অপরিষ্কার হয়ে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে আর উত্তর দিকেরটি তালাবদ্ধ থাকে সবসময়। লোকজন নোংরা জায়গায় বাধ্য হয়ে প্রসাব করে আরও নোংরা করে চলে যায়।

চায়ের দোকানদার মুজিবর রহমান জানান, দীর্ঘ দিন ধরে আশাশুনি সদর বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে চলা মরিচ্চাপ নদীটির বাজার এলাকায় কোন সুরক্ষা বাঁধ নেই। নদীতে বড় জোয়ার এলে লোনা পানি বিভিন্ন দোকানের মধ্য দিয়ে বাজারে ভেতর ঢুকে পড়ে। বাজার সম্প্রসারণ করতে হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাউন্ডারির মধ্যে থাকা প্রায় ১ একর খাস সম্পত্তি (যেখানে বর্তমানে হাট বসে) উদ্ধার করে সেখানে স্থায়ীভাবে চান্নী করা হলে বর্ষার দিনে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাদাপানিতে ভোগান্তি পোহাতে হবে না।

হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী জাকির হোসেন প্রিন্স বলেন, বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়াতে হলে মানিকখালী ব্রীজ থেকে বাজারের উপর দিয়ে যেমন সংযোগ সড়ক জরুরী তেমনভাবে যদি একটি মৎস্যসেট বসানো যায় তবে প্রচুর লোকজন আশাশুনি সদরে এসে কেনাবেচা করতে পারবে। এছাড়া বাজার এলাকায় বাসষ্ট্যান্ড করা হলে সেখান থেকেও অনেক যাত্রী সদরে এসে সওদা করে যেতে পারে। আমরা বিষয়গুলো নিয়ে মানববন্ধন ও ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেও কোন লাভ হয়নি।

ইউপি চেয়ারম্যান স ম সেলিম রেজা মিলন বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বণিক সমিতির কাছে বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে অর্পন করা হয়েছে। তারাই এগুলোর নিয়ন্ত্রন করে থাকেন। কোন সমস্যা হলে আমি সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করি। বাজারের রাস্তাগুলো ঢালাই রাস্তার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দের টাকা না দেওয়ায় সেভাবেই পড়ে আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাউন্ডারির মধ্যে সরকারি খাস সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুত হয়তো একটা সমাধানে আসা যাবে।

সরকারিভাবে বাজার আধুকায়নের নকশা করা হয়েছিল কিন্তু তার কোন বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাইনি। নদী খননের জন্য বরাদ্দ আসছে। আসছে শীত মৌসুমে খননের কাজ শুরু হলে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মান হয়ে যাবে। কসাইখানার জায়গা নির্ধারন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সেটা নির্মান করা হবে। আপাতত কসাইরা দুর থেকে জবেহ করে নিয়ে আসে বলে জানি। শৌচগারের সেপ্টি ট্যাংকির পাশে জবেহ করার বিষয়টি আমার জানা নেই বা কেউ অভিযোগ করেনি।

বাজারে নাইট গার্ড থাকার জন্যে রাতে কোন চুরি হয়না। তবে গত কয়েকদিন দিনের বেলা কয়েকটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে তাই সুরক্ষা বা নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। হাইস্কুলের সামনে থেকে থানা পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারে আমি উপজেলার প্রায় সব মিটিংয়ে বলেছি কিন্তু অদ্যবধি কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নতুন প্রায় এক কি.মি. ঢালাই রাস্তা নির্মানের সাথে এটাও করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশিষ্ট প্রশাসন। তবে আশাশুনি বাজারকে সুন্দর ভাবে গড়ে তুলতে হলে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে এলেই বাজারটিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন