হোম জাতীয় পুলিশের সামনে ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা: ১০ মিনিটেই কিলিং সম্পন্ন

জাতীয় ডেস্ক :

কক্সবাজার সদরের খুরুশকূলে ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে ১০ মিনিটেই কোপানোর পর মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ২০ সদস্যের কিলিং স্কোয়াড।

বুধবার (৬ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব। এর আগে হত্যা মামলার প্রধান আসামি আজিজসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

তবে হত্যার মোটিভ জানাতে না পারলেও বাকি আসামিদের গ্রেফতার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এদিকে ফয়সাল হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে ১৭ জনকে এজাহারনামীয় এবং আরও ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে নিহত ফয়সালের বড় ভাই নাছির উদ্দিন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন।

নিহত ফয়সাল উদ্দিন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি খুরুশকূল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউয়ারপাড়ার মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে। আর আজিজ সিকদারের বাড়ি সদরের খুরুশকূল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম ডেইলপাড়ায়। তার বাবার নাম মৃত বাঁচা মিয়া সিকদার।

ফয়সালের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডেইলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত কুপিয়ে ফয়সালকে হত্যা করে।

দলের নেতাকর্মী ও স্বজনদের দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতেই আজিজ সিকদারের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা ছাত্রলীগের এই নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করে।

এদিকে হত্যার তিন দিন পর মঙ্গলবার রাতে আজিজুল হককে প্রধান আসামি করে ১৭ জনকে এজাহারনামীয় এবং আরও ৭- ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে নিহত ফয়সালের বড় ভাই নাছির উদ্দিন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করেন।

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ঘটনার দিন রাতে এবং পরদিন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই নারীসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। পরদিন তাদের ছয়জনকে ৫৪ ধারায় কক্সবাজার আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকে জড়িতদের ধরতে মাঠে আছে পুলিশ।

মামলার বাদী নাছির উদ্দিন বলেন, মামলার প্রধান আসামি আজিজসহ বাকিরা সবাই চিতাবাঘের মতো ভয়ংকর। এই ভয়ংকর আজিজের নেতৃত্বেই পরিকল্পিতভাবে তার ছোট ভাই ফয়সালকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান তিনি। যেন এভাবে অন্য কাউকে জীবন দিতে না হয়।

এদিকে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৫-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মঞ্জুর মেহেদী ইসলাম বলেন, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডটি র‌্যাবের নজরে এলে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র‌্যাব।

এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজারের লিংক রোডে একটি বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা প্রধান আসামি আজিজ ও ২ নম্বর আসামি ফিরোজ আলমকে ডেইলপাড়া থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেজর মঞ্জুর মেহেদী ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে ১০ মিনিটেই কোপানোর পর মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ২০ সদস্যের সক্রিয় কিলিং স্কোয়াড। বাকি আসামি গ্রেফতার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত হত্যার মোটিভ জানা যায়নি। তবে বাকি আসামিদের গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যার মোটিভ বেরিয়ে আসবে বলে আশা করেন তিনি।

ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালনে অবহেলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে জেলা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন