আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের জোটের ইয়ামিনা পার্টির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ক্ষমতাসীন জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এই বিস্ময়কর পদক্ষেপে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাচ্ছেন ইহুদিবাদী দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এমন খবর দিয়েছে। বুধবারের (৬ এপ্রিল) বেনেটের জোট ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইদিত সিলম্যান। জোটটিতে কট্টর ইহুদিবাদী থেকে শুরু করে আরব মুসলিম পার্লামেন্ট সদস্যও রয়েছেন। জোটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ধর্মীয় রক্ষণশীল ইদিত সিলম্যান।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমি ঐক্যের পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। এই জোটের জন্য আমি অনেক কাজ করেছি।
তিনি বলেন, কিন্তু দুঃখজনকভাবে, ইসরাইলের ইহুদি পরিচয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করার কাজে আমি অংশ নিতে পারছি না। ক্ষমতাসীন জোটের সদস্য থাকছি না। এখন বন্ধুদের নিয়ে একটি ডানপন্থী সরকার গঠনের চেষ্টা করব। কেবল আমার মধ্যেই এই অনুভূতি কাজ করছে না, অন্যরাও একই তাগিদ বোধ করছেন।
এখন ৬০টি আসন নিয়ে বেনেট সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারলেও নতুন কোনো আইন প্রণয়ন করতে গেলেও তারা সমস্যায় পড়ে যাবেন। যদি জোট থেকে আর কোনো সদস্য সরে দাঁড়ান, তবেই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের আয়োজন করবে নেসেট। আর চার বছরের মধ্যে পঞ্চম পার্লামেন্টারি ভোটের আয়োজনের দিকে যেতে হবে ইসরাইলকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক দাহলিয়া শেইন্ডলিন বলেন, প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ইদিত সিলম্যান যদি সরকার হটানোর প্রস্তুতি নেন, তবে নিজের বিশ্বাসের জায়গা থেকেই তিনি তা করছেন। তিনি খুবই ধার্মিক ব্যক্তি। আমি মনে করি, ধর্মতত্ত্বের ক্ষমতাকে আমরা ছোট করে দেখছি।
আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্রে সিলম্যান বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন নতুন হিসাব করার সময় এসেছে। একটি জাতীয়তাবাদী, ইহুদিবাদী ও ইহুদি সরকার গঠনের চেষ্টা করতে হবে আমাদের।
