স্পোর্টস ডেস্ক:
নাটকীয়তা ও বিতর্কের মধ্যে দিয়ে পর্দা উঠেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। বৈশ্বিক এই আসরে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এমন কঠিন সিদ্ধান্তে বিশাল অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে না ভারত-পাকিস্তান। শুধুমাত্র আইসিসি টুর্নামেন্টেই মুখোমুখি হয় এই দুই দল। এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের খেলা দেখতে মুখিয়ে থাকে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আর্থিক আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি হয় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ।
আইসিসির সঙ্গে স্পন্সরশিপ ও সম্প্রচার চুক্তি করেছে জিও স্টার। ভারতীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চার বছরের চুক্তিতে ৩ বিলিয়ন ডলার পাবে আইসিসি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এর সিংহভাগ অর্থই মূলত প্রতি বছর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ওপর নির্ভরশীল।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের প্রতিটি ম্যাচের মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার বা ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। কিন্তু চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে না গড়ালে আইসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পথে হাঁটবে জিও স্টার। এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভারতে ম্যাচ না খেলার অনুরোধ জানিয়েছিল, তবে আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইসিসি। তবে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
শেষ পর্যন্ত চলমান বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে না গড়ালে জিও স্টারের সঙ্গে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হবে আইসিসির। সে ক্ষেত্রে চুক্তির অর্থ ফেরত দিতে হবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। সেইসঙ্গে আইনি জটিলতার বিষয়টি তো আছেই। চুক্তি সম্পর্কে জানেন এমন একটি সূত্র গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, জিও স্টারের সঙ্গে চার বছরের চুক্তির মোট অর্থের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই আসে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে। এই চুক্তির মেয়াদ আগামী বছর শেষ হবে এবং বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে একই শর্তে তা নবায়নের সম্ভাবনা কম।
আইসিসির মিডিয়া স্বত্বের আয় কমে গেলে বা বর্তমান চুক্তি থেকে অর্থ ফেরত দিতে হলে এর বড় প্রভাব পড়বে জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ডের মতো টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর ওপর। এমনকি পাকিস্তানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ এসব দেশের মোট আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে আইসিসি থেকে।
