আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান যদি চলমান যুদ্ধ বন্ধে কোনো সম্মানজনক চুক্তিতে আসতে ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিকে ‘নরক দর্শন’ করাতে বা চরম ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে সতর্ক করেছে হোয়াইট হাউস।
বুধবার (২৫ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই কড়া বার্তা দেন।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট সবসময়ই শান্তি পছন্দ করেন এবং তিনি আর কোনো মৃত্যু বা ধ্বংস দেখতে চান না। তবে ইরান যদি বর্তমান বাস্তবতাকে মেনে নিতে ব্যর্থ হয় এবং তারা যে সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে তা বুঝতে না পারে, তবে তাদের ওপর এমন কঠোর আঘাত হানা হবে যা তারা আগে কখনো দেখেনি। লেভিট জোর দিয়ে বলেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো ফাঁকা বুলি দেন না এবং তেহরানের উচিত হবে না পুনরায় কোনো ভুল হিসাবনিকাশ করা।
এবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে একটি ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। যদিও ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’র দাবি অনুযায়ী তেহরান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জনসমক্ষে কোনো ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে, তবে লেভিট দাবি করেছেন যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তা ইতিবাচক পথেই এগোচ্ছে।
অবশ্য আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু বা ইরানের পক্ষ থেকে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে বলে যে খবর চাউর হয়েছে তা সঠিক নয়। শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে পাকিস্তান ও মিশর উভয় দেশই তাদের ভূমিতে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সোমবার ঘোষণা করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি হওয়ায় তিনি দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা আগামী শুক্রবার পর্যন্ত স্থগিত রেখেছেন।
হোয়াইট হাউস মনে করছে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের অবশিষ্ট অংশগুলোর সামনে এটি একটি বড় সুযোগ যাতে তারা স্থায়ীভাবে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে আমেরিকা ও তার মিত্রদের প্রতি হুমকি বন্ধ করতে পারে।
এই আলোচনার প্রক্রিয়ায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। লেভিট ভ্যান্সের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, জাতীয় নিরাপত্তার প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি প্রেসিডেন্টের পাশে রয়েছেন।
এদিকে ইরান আমেরিকাকে যে ‘বড় উপহার’ দিয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। ধারণা করা হচ্ছে, এই উপহারটি তেল সরবরাহ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গত মঙ্গলবার ২০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী একটি জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই প্রণালি পার হতে পারায় অনেকেই সেটিকে ট্রাম্পের উল্লিখিত ‘উপহার’ হিসেবে মনে করছেন। তবে লেভিট এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেছেন যে, প্রেসিডেন্টই উপযুক্ত সময়ে এ বিষয়ে কথা বলবেন। ট্রাম্প ইতিমধ্যে দাবি করেছেন যে ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা ক্ষমতার পরিবর্তন সম্পন্ন হয়েছে, কারণ মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় দেশটির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই নিহত হয়েছেন।
কূটনৈতিক পথে যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা চললেও সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো ঢিল দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার মার্কিন মেরিন সেনা পাঠানো হচ্ছে এবং পেন্টাগন যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছে। এছাড়া ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের একটি অংশ মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
লেভিট জানান, চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সামরিক অপারেশন শেষ করার যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, তারা তার চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মূল লক্ষ্যগুলো অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে মার্কিন বাহিনী এবং এই সামরিক মিশন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সূত্র: এবিসি নিউজ ও এপি
