হোম জাতীয় পদ্মার পানি কমায় বাড়ছে ভাঙন

জাতীয় ডেস্ক :

পদ্মার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে মানিকগঞ্জে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। দুইদিনে হরিরামপুর উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের ৫০টি বসতভিটার পাশাপাশি বিলীন হয়েছে দুই হেক্টর ফসলি জমি। হুমকির মুখে রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ হাজারও স্থাপনা।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গোপীনাথপুর উজানপাড়া গ্রামের রাবেয়া বেগম। নদীতে চলে যাচ্ছে তার ঘরবাড়ি, বসতভিটাসহ গাছপালা। শেষ সম্বলটুকুও রক্ষা করতে না পারায় থামছেই না তার কান্না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাবেয়া বেগম বলেন, আমার ভাই বেরাদার কেউ নাই, আমরা ৫ বোন। আমরা এখন কোথায় থাকবো।

একই অবস্থা পদ্মা তীরবর্তী অনেকের। জেলার হরিরামপুর, দৌলতপুর, শিবালয় ও ঘিওর উপজেলায় পদ্মা, যমুনার পানি কমায় শুরু হয়েছে ভাঙন। ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব নদী পাড়ের মানুষ।

নদীর তীরবর্তী এক নারী বাসিন্দা জানান, আমাদের বাড়িঘর অর্ধেক ভেঙে গেছে গত দুইদিনে। গরু ছাগল নিয়ে আমাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।

অপর এক বাসিন্দা জানান, সকাল থেকে নিয়ে ১৫ থেকে ১৬ টা বাড়িঘর পানিতে ভেসে গেছে। আমাদের যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই।

ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেললেও তীব্র স্রোতে তাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বানভাসিদের দুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী সমাধান চান স্থানীয় জন প্রতিনিধি।

হরিরামপুরের গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমরা চাই এখানে যে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এতে হয়তো সাময়িকভাবে কিছুটা ক্ষতি হয়তো কমবে কিন্তু আমরা স্থায়ী সমাধানের জোর দাবি জানাচ্ছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী শাহিনুর রহমান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জিও ব্যাগ নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। গতকাল থেকে কিছু বড় বস্তাসহ ভেঙে চলে গেছে। আমরা চেষ্টা করতেছি যাতে ভাঙন প্রতিরোধ করতে পারি।

দুইদিনের ভাঙনে হুমকির মুখে রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দিরসহ হাজারও স্থাপনা। গৃহপালিত পশু নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে নদী পাড়ের মানুষের।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন