হোম অর্থ ও বাণিজ্য দুর্ভাগ্য ঘিরে ধরেছে ইলন মাস্ককে

বাণিজ্য ডেস্ক :

সমালোচনা যেন পিছু ছাড়ছেই না বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের। কয়েকদিন আগেই টুইটার কেনা নিয়ে বিশ্বের সংবাদমাধ্যমের মনোযোগের কেন্দ্রস্থলে ছিলেন তিনি।

টুইটার নিয়ে মাস্কের নাটকীয় অধ্যায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ঝড় ওঠে ব্যক্তিগত জেট বিমানে এক নারী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে যৌন হয়রানির বিষয়টি।

এরমধ্যেই আবার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট বাতিলের বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দেন ইলন মাস্ক। ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট বাতিলের সিদ্ধান্তটি ভুল হিসেবে উল্লেখ করে ইলন মাস্ক জানান, তিনি ট্রাম্পের টুইটারের অ্যাকাউন্টটি ফের বহাল করবেন।

এসব ইস্যু নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই আবার নতুন করে খারাপ খবর পেয়েছেন ইলন মাস্ক।

২০২১ সালে কানাডায় টেসলার একটি মডেল ওয়াই গাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত করবে কানাডার অটো সেফটি এজেন্সি। তাদের পাশাপাশি কানাডার ভ্যাংকুভারে সংঘটিত ওই আগুনের ঘটনায় নাক গলিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে তারাও। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ঘটনার জন্য টেসলার কারিগরি ত্রুটিকেই দায়ী করেন গাড়ির চালক। গাড়িতে ত্রুটির নোটিফিকেশন পাওয়ার পরপরই কালো ধোঁয়া দেখতে পান বলে জানান তিনি। এ সময় গাড়ির দরজা খুলতে চাইলেও তা খোলেনি। এমনকি গাড়ির জানালাও নামানো সম্ভব হয়নি। এ সময় গাড়ির পাওয়ার কাজ করছিল না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জীবন বাঁচাতে একপর্যায়ে তিনি গাড়ির সামনের উইন্ডশিল্ড ভেঙে বেরিয়ে আসেন।

এ পরিস্থিতিতে তদন্তকারীরা টেসলার নির্মাণ ত্রুটি খুঁজে পেলে, তা নিঃসন্দেহে টেসলা ও তার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের জন্য নতুন করে ভোগান্তির কারণ হবে।

অবশ্য টেসলার গাড়িতে আগুন লাগা কিংবা গাড়ির পাওয়ার বন্ধ হয়ে দরজা-জানালা লক হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। এর আগেও টেসলার বিভিন্ন মডেলের গাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় টেসলার এস মডেলের গাড়িতে আটকা পড়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান ৪৮ বছর বয়সী এক চিকিৎসক। চলন্ত গাড়িতে আগুন ধরে যাওয়ার পর লক হয়ে যায় তার গাড়ির দরজাও। ফলে বের হতে না পেরে গাড়িতেই পুড়ে মারা যান ওমর আয়ান নামের ওই চিকিৎসক।

তবে এসবের মধ্যেই বিশ্বের গণমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়টি।

বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৮ সালে এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের সঙ্গে যৌন হয়রানির অভিযোগ আড়াই লাখ ডলারে নিষ্পত্তি করেন ইলন মাস্ক। তবে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করে টুইট করেছেন ইলন মাস্ক।

বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৬ সালে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় মাস্ক ওই নারীকে আপত্তিকর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিনিময়ে তাকে ঘোড়া কিনে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইলন মাস্ক।

অবশ্য বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন মাস্ক। তার বিরুদ্ধে ওঠা এই কেলেঙ্কারিকে ‘ইলন গেট’ হিসেবে অভিহিত করে মাস্ক অভিযোগ করেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণেই তাকে টার্গেট করে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

অবশ্য এ ঘটনা সত্য-মিথ্যা যাই হোক না কেন, ক্ষতি যা হওয়ার তা ইলন মাস্কের হয়েই গেছে। খবরটি প্রকাশের পরপরই এক হাজার কোটি ডলার হারাতে হয় তাকে। যৌন হয়রানির খবরটি প্রকাশের পরপরই টেসলার শেয়ারের দর কমে যায়।

সব মিলিয়ে কিছুদিন ধরেই সময়টা খারাপ যাচ্ছে ইলন মাস্কের। টুইটার কিনতে চেয়ে সারা বিশ্বে শোরগোল ফেলে দিলেও এরপর থেকেই দুর্ভাগ্য ঘিরে ধরেছে তাকে।

আর একের পর এক খারাপ খবরের পেছনে শুধু টুইটার নিয়ে তার উল্টাপাল্টা কর্মকাণ্ড আর তার বিরুদ্ধে ওঠা সেক্স স্ক্যান্ডালই শুধু নয়, তার প্রতিষ্ঠিত টেসলা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কিছু কারণও রয়েছে।

বিভিন্ন কারণে ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে টেসলার শেয়ারের দাম। চীনের লকডাউনের ধাক্কা লেগেছে টেসলার ওপরও। সাংহাইয়ে করোনা লকডাউনের কারণে সেখানে অবস্থিত টেসলার বিশাল কারখানায় উৎপাদন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কারখানাটিতে এখনো পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে পারেনি টেসলা।

এ বছর নিজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে ব্যক্তিগতভাবে ৭০ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন ইলন মাস্ক। বিশেষ করে টুইটার অধিগ্রহণের ঘোষণার পর থেকে মাস্ক হারিয়েছেন ৪৯ বিলিয়ন ডলার।

অবশ্য এত কিছুর পরও এখনো বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তকমাটি ইলন মাস্কেরই রয়েছে। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ২০১ বিলিয়ন ডলার।

 

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন