হোম আন্তর্জাতিক ‘তেলের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছালে বিশ্বব্যাপী মন্দার ঝুঁকি আছে’

‘তেলের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছালে বিশ্বব্যাপী মন্দার ঝুঁকি আছে’

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 48 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছালে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরকের প্রধান নির্বাহী ল্যারি ফিংক। বুধবার (২৫ মার্চ) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যদি ভূরাজনৈতিকভাবে হুমকি (পশ্চিমের জন্য) হিসেবে থেকে যায় এবং তেলের দাম দীর্ঘ সময় বাড়তি থাকে, বিশ্ব অর্থনীতিতে তার গভীর প্রভাব পড়বে জানিয়ে ল্যারি বলেন, এতে জ্বালানি ব্যয় ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং ভোক্তা ব্যয় কমে যেতে পারে-এই দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যেতে পারে।

সাক্ষাৎকারে ল্যারি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বুদ্‌বুদ তৈরি হয়নি। তবে এই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে শ্রমবাজারে কাঠামোগত পরিবর্তন আসছে। তাঁর মতে, বর্তমানে অনেক মানুষ বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রির পেছনে ছুটছেন, অথচ প্রযুক্তিগত ও কারিগরি প্রশিক্ষণে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে জ্বালানিবাজারের অস্থিরতা ও প্রযুক্তিগত রূপান্তর-দুটি বড় প্রবণতাই বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানান ফিংক।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দামে কী প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ফিংকের মতে, এ সংঘাতের চূড়ান্ত পরিণতি এখনই বোঝা কঠিন। তবে দুটি চরম পরিণতির আশঙ্কা আছে বলে মনে করেন তিনি।

প্রথমত, যদি সংঘাতের সমাধান হয় এবং ইরান আবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, তাহলে তেলের দাম যুদ্ধের আগের অবস্থার চেয়েও কমে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, তা না হলে তার আশঙ্কা, বছরের পর বছর তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে, এমনকি ১৫০ ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব পড়বে। ব্যাপক ও গভীর মন্দা হতে পারে।

এমতাবস্থায় জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দেশগুলোকে বাস্তববাদী হতে হবে বলে পরামর্শ দেন ফিংক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সস্তা জ্বালানি নিশ্চিত করা, এটি না হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ব্যাহত হবে।

উল্লেখ্য, ব্ল্যাকরক প্রায় ১৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবস্থাপনা করে এবং বিশ্বের বৃহত্তম কোম্পানিগুলোর অন্যতম বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচিত। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ল্যারি ফিঙ্ক, যিনি বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে থাকেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন