আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন প্রথিতযশা রুশ ব্যবসায়ী ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। এই পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার আগে পরিবারের সদস্যদের হত্যারও অভিযোগও রয়েছে।
মৃতদের চারজন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা গ্যাজপ্রম এবং এর সহায়ক কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এসব বিষয়ে গ্যাজপ্রম সিএনএনের সঙ্গে কথা বলতে চায়নি।
চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি লেলিনগ্রাদের কাছে লেনিনস্কি গ্রামের একটি কটেজে গ্যাজপ্রমের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরআইএ নভস্তি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তারা জানায়, মৃত্যুর সময় তার মরদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। রাশিয়ার জাতীয় আরেকটি সংবাদমাধ্যম রেনটিভি ওই ব্যক্তির নাম লেওনিদ সুলমান বলে জানিয়েছে। তিনি গ্যাজপ্রমের ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ছিলেন।
এ ঘটনার এক মাস পরেই একই গ্রামে গ্যাজপ্রমের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তার মরদেহ পাওয়া যায়। আলেকজান্ডার টিয়ালকভ নামের ওই কর্মকর্তাকে গ্যারেজ থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম নভ্যায়া গ্যাজেটা বিষয়টি নিশ্চিত করে আরও জানায়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
সিএনএন রাশিয়ার তদন্তকারী কমিটিকে এই দুটি ঘটনার কথা জিজ্ঞাসা করলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।
মিখাইল ওয়াটফোর্ড ছিলেন একজন ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত রুশ বিলিয়নিয়ার। তাকেও ইংল্যান্ডের সারেই থেকে মৃত অবস্থায় চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পাওয়া যায়।
সারেই পুলিশ সিএনএনকে জানায়, তার মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভাসিলি মেলনিকভ নামের আরেকজনকে নিজনি নভগরদ থেকে মার্চের শেষ দিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। রুশ পত্রিকা কম্মেরসান্ট বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মেলনিকভ মেডস্টোম নামের একটি চিকিৎসা সামগ্রী সাপ্লাই কোম্পানির মালিক ছিলেন। তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির ২৩ তারিখে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। এ সময় তার স্ত্রী এবং ১০ ও ৪ বছরের দুই শিশুসন্তানকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
মার্চে যখন ঘটনাটি ঘটে, তখন রাশিয়ার তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছিল, তাদের বাসায় কারো ঢোকার চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং ছুরিগুলো উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তারা এ-ও দাবি করে, পরিবারের প্রধানের কারণে এমন ঘটে থাকতে পারে।
এ মাসের শুরুতে আরও দুই রাশিয়ান ব্যবসায়ীর রহস্যজনক ‘আত্মহত্যা’র মাধ্যমে অন্তর্ধান ঘটে।
গ্যাজপ্রমব্যাংকের সাবেক উপপ্রধান ভ্লাডিস্লাভ আভাইয়েভকে তার স্ত্রী ও কন্যার সঙ্গে মস্কোয় তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ১৮ এপ্রিল মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারী একটি বাহিনীর বরাতে তাসের দাবি, প্রথমে খুন ও এরপর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
গ্যাজপ্রমব্যাংকের আরেক সাবেক উপপ্রধান ইগর ভলবুয়েভ বর্তমানে ইউক্রেনের জন্য রাশিয়া ছেড়েছেন। তিনি মনে করেন, আভায়েভ আত্মহত্যা করতে পারেন না। তিনি সিএনএনকে বলেন, ‘তার কাজ ছিল প্রাইভেট ব্যাংকিং দেখা। তার মানে, তিনি ভিআইপি মক্কেলদের সঙ্গে কাজ করতেন। তার আওতায় অনেক বড় অঙ্কের অর্থ ছিল। তাহলে তিনি কি আত্মহত্যা করলেন? আমার তা মনে হয় না। আমার মনে হয়, তিনি কিছু জানতেন এবং তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে ছিলেন।’
এপ্রিলের ৯ তারিখে গ্যাস উৎপন্ন প্রতিষ্ঠান নোভাটেকের শীর্ষ কর্মকর্তা সারজেই প্রতোসেনয়াকে তার কন্যা ও স্ত্রীসহ মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বার্সেলোনায় এক মেডিটেরারেয়ান রিসোর্টে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়। তদন্তকারী সংস্থা সিএনএনকে জানায়, দুই নারীর শরীরে অত্যাচারের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটিকে প্রথম জোড়া খুনের পর আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।
নোভাটেকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। মিডিয়ায় তার মৃত্যু নিয়ে আমরা নানা ধরনের কথা শুনতে পাচ্ছি। তবে আমাদের বিশ্বাস, স্পেনের সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী বিষয়টি নিয়ে নৈর্ব্যক্তিকভাবে তদন্ত চালিয়ে যাবে।
