জাতীয় ডেস্ক :
পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে অন্য একদিন কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকরা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের কাছে তিন পুলিশ সুপারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইল তিনি বলেন, এটা রুটিন ওয়ার্ক। আইনেই আছে ২৫ বছর পর সরকার যে কোনো কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠাতে পারে। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যারা আছেন, তাদের কাছে হয়তো মনে হয়েছে তাদের (পুলিশ কর্মকর্তা) কাছে কোনো তথ্য আছে। তাদের সার্ভিস হয়তো সন্তোষজনক নয় সেজন্য।
এ সময় পাশে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমি আরেকদিন কথা বলব।
যদিও তাদের অবসরের নথিতে পুলিশ সদর দফতর বলেছে, তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আদান-প্রদান করতেন। আর অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেয়া হয়েছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান তাদের অবসরের বিষয়ে একটি গণমাধ্যমকে বলেন, তারা কোনো কাজ করেন না। হাজিরা দিয়ে চলে যান। তাদের পেছনে ৮-১০ জন কনস্টেবল থাকেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা ফেসবুকে ভুয়া সংবাদ আদান-প্রদান করেন। পুলিশ সদর দফতর আমাদের কাছে তাদের অবসরে পাঠানোর প্রস্তাব পাঠালে আমরা তা বাস্তবায়ন করেছি।
অবসরে পাঠানো সিআইডির এসপি আবদুল্লাহেল বাকী তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে বলেন, আমি ফেসবুক ব্যবহার করি না। এখন তারা (সরকার) অনেক কিছু বলতেই পারেন। কিন্তু আমি কাজ না করলে তো আমাকে কয়েক দিন আগেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে দুবাই পাঠাতেন না। দীর্ঘদিন আমাকে পদোন্নতি দেয়া হয়নি। কেন দেয়া হয়নি, আমি জানি না।
এর আগে তথ্যসচিব মকবুল হোসেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগেই বাধ্যতামূলক অবসরের আদেশ পাওয়ার পরদিন সোমবার (১৭ অক্টোবর) তিনি দাবি করেন, সরকার বিরোধীদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। কোন অপরাধে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো সেটা জানেন না তিনি। নীতি-নৈতিকতার সঙ্গে কখনোই আপস করেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
