জাতীয় ডেস্ক :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কৃষ্ণচূড়া গাছ কাটার প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আরও ১০০টি গাছ রোপণ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের কৃষ্ণচূড়া গাছ কাটার প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আরও ১০০টি গাছ রোপণ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের বাসভবনের সামনে প্রতিবাদ সভা করেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ বছরের প্রাচীন গাছসহ ১৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
কদিন আগেও ছিলো কৃষ্ণচূড়ার লাল ফুল। সেখানেই এখন খাঁ খাঁ শূন্যতা। পড়ে আছে কেটে নেওয়া গাছের গুঁড়ি। আর আছে গত কয়েক দশকের স্মৃতি।
শুধু এ কৃষ্ণচূড়াই নয় কেটে ফেলে হয়েছে ডাকসু এবং কলাভবনের মাঝামাঝি আরও দুটি ইউক্যালিপটাস গাছ। গাছ কাটার ক্ষোভ আর আক্ষেপে প্রতিবাদী অবস্থান নেনে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের ভালো লাগার সঙ্গে অনেক খানি জুড়ে আছে এসব গাছগুলো। কোনো বিল্ডিংয়ের সঙ্গে যতটা না মনোসংযোগ থাকে তার চেয়ে বেশি থাকে প্রকৃতির সঙ্গে, মনোসংযোগটা বেশি থাকে। ইমোশনের জায়গাটাতে নষ্ট করে শোভা বর্ধন এটা আসলে কোনো শিক্ষার্থীই মেনে নেবে না। গাছ কাটার সিদ্ধান্ত একেবারেই অযৌক্তিক।
অনেক স্মৃতি আর আন্দোলনের সাক্ষী ক্যাম্পাসের এসব গাছ। কেটে ফেলা গাছের খণ্ডিত অংশে কাফন মুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। কেটে ফেলা গাছটির স্থানে রোপন করেন আরেকটি কৃষ্ণচূড়া।
শিক্ষার্থীরা বলেন, স্বাধীনতার পতাকা যেখানে উড়ানো হয়েছিল সেখানে এ গাছটা সাক্ষী ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় যখন খুলছে সেখানে শিক্ষার্থী নির্মল আবহাওয়া দরকার সেখানে গাছ কাটা হচ্ছে।
শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই নয় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) প্রায় ৫০ বছরের প্রাচীন গাছসহ ১৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। টেন্ডার অনুযায়ী ৩৫টি গাছ কাটার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রুয়েট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে বর্তমান প্রশাসন ভবনের পাশের অংশে ১০টি বহুতল ভবন নির্মানের করতে এ গাছ কাটা হচ্ছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ চলছে রুয়েটেও।
মানববন্ধনে আসা ব্যক্তিরা জানান, সারা বাংলাদেশে যত তাপমাত্রা হয় সবচেয়ে বেশি হয় রাজশাহীতে, যদি গাছ টাকা হয় তাহলে গরম কিন্তু আরো বেড়ে যাবে। অনেক অপরিকল্পিত বিল্ডিং আছে, ক্লাস আছে সেগুলো ব্যবহার না করে ৬০০ কোটি টাকা থেকে ১০০ কোটি টাকা ভাগ খাওয়ার জন্য এ কাজগুলো করা হচ্ছে।
তবে পরিবেশবিদরা বলছেন, প্রাচীন গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রেখেও উন্নয়ন সম্ভব।
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাতে গোনা কয়েকটি কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে। তার মধ্যে কলাভবনের প্রক্টর অফিসের কোণে ছিল একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ। এ গাছ কলাভবনের সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছিল।
কলাভবন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গাছটির ডালপালা কাটা হয়েছে। আর কাণ্ডটির অর্ধেকও কেটে নিচে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করছে, দুর্ঘটনা এড়াতে এ কৃষ্ণচূড়া গাছটি কাটা হয়েছে।
গাছ কাটার দায়িত্বপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবরি ক্যালচার সেন্টারের পরিচালক ড. মিহির লাল সাহা সময় সংবাদকে বলেন, ‘শিকড় নরম হয়ে গাছটি দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। রাস্তার দিকে ৪৫ ডিগ্রি এঙ্গেলে হেলে গিয়েছিল। গাছটি পড়ে গেলে যে কেউ ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হতে পারত। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেটি কাটা হয়েছে। এখানেই আরেকটি কৃষ্ণচূড়া রোপণ করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে আমাদের ১০০টি নতুন গাছ লাগানোরও পরিকল্পনা আছে বলেও জানান তিনি।
আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘এটি ছিল কৃষ্ণচূড়া গাছ। এ গাছের শিকড় নরম হয়। গাছটি জীবনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই গাছটি কাটা হয়েছে।’
এর আগে শিকড় নরম হওয়ার পরেও না কাটার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু গাছ ঝড়ে উপড়ে পড়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
