আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মুখে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে ট্রাম্পকে সরাসরি কটাক্ষ করেছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) ইরানের সামরিক বাহিনী কর্তৃক প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় জুলফাগারিকে ইংরেজিতে বলতে শোনা যায়, ‘ট্রাম্প, তোমাকে বরখাস্ত করা হলো। তুমি এই বাক্যের সঙ্গে পরিচিত। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।’
ট্রাম্পের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এর বিখ্যাত উক্তি ব্যবহার করে দেওয়া এই খোঁচা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, এটি তারই একটি চ্যালেঞ্জিং প্রতিত্তোর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ইরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে ট্রাম্প যদি তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানেন, তবে তারা পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি স্থাপনা এবং পানি শোধনগার বা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালাবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান, যা ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধকালীন পরিকল্পনার একটি বড় ঘাটতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যদিও ইরান নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, তবে শত্রুভাবাপন্ন দেশের সব ধরনের জাহাজ চলাচল রুখে দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে তেহরান। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে এক ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি পরিবহনের প্রধান এই জলপথটি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭০-এর দশকের ঐতিহাসিক জ্বালানি সংকটের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
ট্রাম্প এই সংকট নিরসনে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেও তেহরান সেই চাপ অগ্রাহ্য করে তাদের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান আরও কঠোর করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অনড় অবস্থান এবং ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার ঘটনাটি ইঙ্গিত দেয় যে তারা একটি দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
বর্তমানে ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের সামনে চারটি কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ খোলা রয়েছে, তবে কোনোটিই সুনিশ্চিত বিজয়ের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। ট্রাম্প যদি আল্টিমেটাম শেষে সত্যিই ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালান, তবে তার প্রতিক্রিয়ায় পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা ধসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ব্যবহার করে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরের বাণিজ্যিক রুটগুলোকে পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এমন এক সন্ধিক্ষণে ইব্রাহিম জুলফাগারির এই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য মূলত ওয়াশিংটনকে এটিই মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, যুদ্ধের ময়দানে পরিস্থিতি এখন আর কেবল আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে নেই।
সূত্র: আল জাজিরা
