জাতীয় ডেস্ক :
‘টিকিটের কালোবাজারি’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি সময় টেলিভিশনে প্রচার হওয়ার পর নীলফামারী সৈয়দপুর স্টেশনের বুকিং সহকারী জাহেদুল ইসলাম রনিকে পাকশীতে তলব করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই সময় টেলিভিশনে নীলফামারীতে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কালোবাজারিদের নিয়ন্ত্রণে শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রচার হয়। তিনটি জেলা দিনাজপুর, নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁও থেকে সরাসরি লাইভ নিউজ হওয়ার পর পাকশী সৈয়দপুর স্টেশনের ওই বুকিং সহকারীকে জাহেদুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে পাকশীতে তলব (বুকঅফ) করেন।
এ বিষয়ে বুকিং সহকারী জাহিদুল ইসলাম রনি বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সময় সংবাদকে বলেন, ‘একটি অভিযোগের ভিত্তিতে হেড অফিস থেকে আমাকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে। সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আমি যথাসময়ে জবাব দেব।’
জানা গেছে, নীলফামারী চার স্টেশন, চিলাহাটি, ডোমার, নীলফামারী ও সৈয়দপুর থেকে প্রতিদিন ৫টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে ৪টি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা না থাকলেও চিলাহাটি থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট পাওয়া আর সোনার হরিণ পাওয়া একই কথা।
সকালে টিকিট কাউন্টার খেলার সঙ্গে সঙ্গেই লোক দেখানো দুএকজনকে টিকিট দেয়ার পর বোর্ড লাগিয়ে দেয়া হয় টিকিট শেষ। নীলফামারী থেকে ঢাকা যাওয়ার আন্তঃনগর নীলসাগর ট্রেনের জন্য মোট বরাদ্দ শোভন চেয়ার-২৯৬টি, এসি চেয়ার-৬৬ ও বাথ-৯টি। এগুলোর মধ্যে চিলাহাটির বরাদ্দ শোভন চেয়ার-৭৪টি, এসি চেয়ার-২২টি।
ডোমারের জন্য বরাদ্দ- শোভন চেয়ার-৫০টি, এসি চেয়ার-১০, বাথ-৩টি, নীলফামারী জন্য বরাদ্দ শোভন চেয়ার-৬৪টি, এসি চেয়ার-১০টি, বাথ-দুটি ও সৈয়দপুর জন্য বরাদ্দ শোভন চেয়ার-১০৮টি, এসি চেয়ার-২৪টি ও বাথ-চারটি।
নীলফামারী স্টেশনে অনলাইন সিস্টেম চালু না থাকায় এখনো সরাসরি কাউন্টার থেকে টিকিট দেয়া হয়। কিন্তু বাকি তিন স্টেশনে অর্ধেক টিকিট অনলাইনে জন্য বরাদ্দ থাকে। এই চার স্টেশনের কাউন্টারে ভোর থেকে লাইন লাগিয়েও মানুষ টিকিট পান না। স্টেশনের আশপাশ ঘুরলেই দালালরা নিজেরাই যোগাযোগ করে টিকিট লাগবে না কি জানতে চান। দালারদের কাছ থেকে যে কোনো সময় দ্বিগুণ অথবা তারও অধিকদামে টিকিট পাওয়া যায়।
এ ব্যপারে চারটি স্টেশনের মাস্টারদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, অনলাইনের টিকিট কীভাবে কালোবাজারিদের হাতে যায় তা তাদের জানা নেই। তবে তারা স্বীকার করেন যে, স্টেশনের আশপাশে কালোবাজারিতে টিকিট বিক্রি হয়।
সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম রতন বলেন, ‘নীলফামারীতে কয়েক লাখ মানুষ বসবাস করেন। এই জেলার জন্য সামান্য বরাদ্দের মধ্যেও আসপাশ জেলার লোকজনও এখানে আসে টিকিট কিনতে। আন্তঃনগর নীলসাগর ট্রেনে যদি দুটি কোচ বা আরও একটি ট্রেন বাড়ানো হয় তাহলে টিকিটের সংকট থাকবে না।’
