তাজমুল, ঝিকরগাছা :
বৃষ্টির পানিতে ডুবলো ধান, অসহায় কৃষক ঝিকরগাছায় কারেন্ট পোহে (পোকে) প্রথমে কিছু ধান নষ্ট হরছে (করছে)। বাকিঢা নষ্ট হরলো বৃষ্টিতে। এহন (এখন) কী করমু, সজ্ঞলের (সবার) একই অবস্থা। শুক্রবারের বৃষ্টিতে ধান আর বাড়ি আনা সম্ভব হয়নি। ধানগাছ পচে যাচ্ছে। সোমবার (৬ ডিসেম্বর ) বিকেলে ঝিকরগাছার রাজবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম আক্ষেপ করে এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, এবার ১৫ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছিলেন। ৫ বিঘার ধান ঘরে তুলেছেন। ১০ বিঘার পাকা ধান কেটে ক্ষেতেই রোদে শুকাতে দিয়েছিলেন। কিন্তু শুক্রবার শুরু হলো বৃষ্টি। এখন ক্ষেতে হাঁটুপানি জমেছে। ভাসছে কাটা ধান। সোমবার (৬ ডিসেম্বর ) মেঘলা আকাশ। এমন অবস্থায় শ্রমিকও পাচ্ছেন না তিনি। বৃষ্টিতে ডুবলো পাকা ধানের ক্ষেত।
একই এলাকার নায়ড়া গ্রামের কৃষকরা জানান, এখন বিপদে আছেন অনেক কৃষক। অনেকে জমিতে এবার ধান করেছিলো। ধান কাটাও হয়েছে। কিন্তু ধান বাড়িতে আনতে পারেননি। ক্ষেতে পানি জমে কাটা ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ ধান ঘরে তুলেছেন কেউ বা তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন সময়ে এ দুর্ভোগে পড়ে হতাশ শংকরপুর, হাজিরবাগ, নির্বাশখোলা ও বাকড়াসহ উপজেলার অধিকাংশ কৃষকেরা।
বৃষ্টিপাতে তলিয়ে যাওয়া মাঠের ধান নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন কৃষকেরা। অগ্রহারণ মাসের ঝড়ো বৃষ্টিতে ক্ষেতের ধান গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। এরপর আবার টানা তিনদিন গুড়ি গুড়ি বর্ষণ হওয়ায় ক্ষেতগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি থেকে ধান কেটে ঘরে তুলতে শ্রমিককে অতিরিক্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। ভেজা ধান শুকানো নিয়েও রয়েছে বেশ দুর্ভোগ। কয়েক মাস পরিশ্রম আর বিনিয়োগের ফল ঘরে তোলার সময়ে এমন দুর্দশায় পড়তে হয়েছে কৃষকদের।
একদিকে শ্রমিক সংকট, অপরদিকে ধান কেটে বাড়ি আনতে তিনগুণ পরিশ্রমের পরও সোনালি ফসল ঘরে তুলতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারও কৃষককে। বৃষ্টি শুরুর আগেই যাদের ধান কাটা শেষ হয়েছে তাদের অনেকেই ধান শুকাতে পারেনি। ফলে নষ্ট হয়ে গেছে ধান। দেখা দিতে পারে গো খাদ্যের চরম সংকট।
এদিকে প্রান্তিক চাষিরা তাদের দাদন ব্যবসায়ী মহাজনদের দাদনের ধান ও সুদের চিন্তায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কারণ, বেশিরভাগ প্রান্তিক চাষি স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে মৌসুমের শুরুতে দাদন নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু এখন ধান ঘরে তুলতে না পারায় উভয় সংকটে পড়েছেন তারা।
