হোম অন্যান্যসারাদেশ ঝিকরগাছার নায়ড়ায় চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা সহযোগিতায় কিশোর গ্যাং

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের নায়ড়া গ্রাম সংলগ্ন বাজারে হাত বাড়ালেই মিলছে ভয়ানক মাদক, যার অন্যতম নৈপত্যে ভুমিকায় এলাকার উঠতি বয়সী কিশোরগ্যাং। বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এলাকার পশ্চিম পাশে ১০-১২ কিলোমিটার রাস্তা গাড়িতে গেলে ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের পথ, উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড নায়ড়া বাজার এলাকায় প্রায় ৪-৫ বছরের ও বেশি সময় ধরে মাদক ব্যবসা চলছে কিশোরদের দিয়েই।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাত যত গভীর হয় ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা তত জমজমাট হয়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত আর সেই রাতের আধারটাকে পুজি করে নায়ড়া স্কুল মাঠ ও দিঘির পাড় মোড় সংলগ্ন সেই মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ির চারপাশ ঘিরে কয়েকজন কিশোররা চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা মাদকের ব্যাবসা। বেশির ভাগই ১৪ থেকে ১৫ বা ১৫ থেকে ১৭ বছরের। গাঁজার ছোট পুরিয়া অর্থ্যাৎ ১ মুড়া ২০ টাকা আর প্যাকেট ১০০ টাকা, বড় প্যাকেট ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। তাছাড়া এখানে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় এক পিচ ইয়াবা বিক্রি হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেলে, এসব মাদক স্পট বর্তমানে যারা পরিচালনা করছে তারা এর আগে একাধিকবার থানা পুলিশের হাতে আটক হলেও পুনরায় জেল থেকে বেরিয়ে এসে মাদক কেনা-বেচার সাথে জড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এসব স্পট থেকে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিচিত ক্রেতারা ফোনে অর্ডার দিচ্ছে, সেই অনুযায়ী তাদের দেওয়া ঠিকানায় মাদক পৌঁছে দিয়ে আসছে বিক্রেতারা। এর জন্য টাকা কিছুটা বেশি নেওয়া হয়। অজানা কারনে তাদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করছেনা। তাদের খুটির জোর কোথায় সেটা এখন এলাকার মানুষের মধ্যে ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে।

কিন্তু পুলিশের গাড়ি এলে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই সতর্ক হয়ে যায়। বা যার যার মত তারা গা ঢাকা দেয়। গাড়ি দেখলে বিক্রেতারা হাঁকডাক দেন না ক্রেতারাও দ্রত পালিয়ে যায়। তাঁদের ধারণা, গাড়িতে করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাতে পারে। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার কাজটি করে থাকে কিশোর দল।

লাভজনক এই ব্যবসায় কিশোররাই প্রধান ‘হাতিয়ার ও অন্যতম টার্গেট। নায়ড়া স্কুল মাঠ, দিঘির পাড় ও পাড়ার ভেতরের অবস্থা আরও ভয়াবহ। এই এলাকাটি কিশোররা মাদক খাওয়া ও বিক্রির নিরাপদ স্থান হিসাবে বেছে নিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, নায়ড়া বাজারের একজন দোকান ব্যবসায়ী তিনি জানান, আমার ছেলে বয়স ১৫ থেকে ১৬ বছর দীর্ঘ ৪ বছর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। প্রায় মাদকের টাকার জন্য বাড়িতে হট্টগোল ও সংসারের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। কোন কিছুতেই আমার ছেলেটিকে ভালো করতে পারছি না। তিনি বলেন আজ যদি এলাকায় মাদক বেচাকেনা না হতো তাহলে আমার ছেলেটির এমন পরিনিতি হতো না।

তবে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতে মাদক, অপরাধ ও যৌনতা একটি বৃত্তের মধ্যে থাকে। মাদক বহন করতে গিয়ে একজন কিশোর প্রথমে ওই প্যাকেট খোলে। সেখান থেকে সে মাদকাসক্ত হয়। মাদকাসক্ত হলে ওই কিশোরের টাকার প্রয়োজন হয়। তখন ডিলাররা তাকে ২০ টি গাজার পুড়িয়া বিক্রি করলে দুটি বিনা মূল্যে দেওয়ার কথা বলে। এভাবে মাদকের সঙ্গে জড়িত কিশোররা ভবিষ্যতে পেশাদার সন্ত্রাসী হওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে।

সবশেষে এলাকা বাসী, সর্ব সাধারণের মতে প্রশাষনের কাছে একটাই অনুরোধ ঝিকরগাছার নায়ড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ংকর মাদকের আখড়াকে অনতি বিলম্বে যদি ধ্বংস না করা হয় তাহলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে এলাকার শিশু, কিশোর, যুব সমাজ সবই মাদকে নিমজ্জিত হয়ে যাবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন