জাতীয় ডেস্ক :
সেনা ও বিমানবাহিনী সদস্যদের হত্যার দায়ে জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করেছে আওয়ামী লীগ।
মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে ১৯৭৭ সালে গুমের শিকার সেনা ও বিমানবাহিনীর দেড় হাজার সদস্যের খোঁজ পেতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
৭৭ এ কথিত বিদ্রোহ দমনের নামে শত শত সেনা ও বিমান বাহিনী সদস্যকে হত্যা করেন জিয়াউর রহমান। এমনটাই দাবি করে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার।
সত্তরোর্ধ্ব নূরুন্নাহার বেগমের স্বামী দেলোয়ার হোসেন বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট ছিলেন। বিয়ের ৩ বছরের মাথায় সেনানিবাস থেকে নিখোঁজ হন তার স্বামী।
তিনি শুনেছেন তথাকথিত বিদ্রোহ দমনের নামে ১৯৭৭ সালে ফাঁসি হয় তার স্বামীর। কিন্তু লাশটি আজও মেলেনি। সেই লাশ ফিরে পেতে শহীদ মিনারে হাজির হন নুরুন্নাহার।
তিনি বলেন, ‘স্বামীর কবরটা থাকলে সেখানে গিয়ে আল্লাহর কাছে একটু মোনাজাত করতে পারতাম। আমার ছেলেরা তো বাপহারা।’
শোকের মাসে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে শুধু তিনি নন, শহীদ মিনারে আসেন শত শত পরিবারের মানুষ।
আরেক নারী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান আমার বাবাকে ফাঁসি দিয়েছে। আমি এখনও খুঁজি, আমার বাবা হাতে করে আমার জন্য খাবার নিয়ে আসবে। কিন্তু বাবাকে তো পাই না।’
সমাবেশে সংহতি জানান নানা পেশার অনেকেই। তারা বলেন, একদিকে এই মানুষগুলোকে যেমন হত্যা করা হয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রও দাঁড়ায়নি পরিবারগুলোর পাশে।
সমাবেশে আসা এক ব্যক্তি বলেন, ‘একটি তদন্ত হয়ে জনসমক্ষে দোষী সাব্যস্তের বিচারটি যেন করা হয়। সংবিধান সংশোধন করে এই বিশেষ বিচারের জন্য যদি ব্যবস্থা নেয়া যায় সেটিও নেয়া যেতে পারে।’
আরেক ব্যক্তি বলেন, পার্লামেন্টের পবিত্র জায়গায় খুনি জিয়ার যে স্থাপনা রয়েছে সেখানে তার কবর নেই, আমরা সবাই জানি। তাই সেটা অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা হোক।
১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন জিয়াউর রহমান। সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে বিমান বাহিনীতে ঘটে অভ্যুত্থানের ঘটনা। সে অভ্যুত্থান দমনের নামে ফায়ারিং স্কোয়াড ও ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সেনা ও বিমান বাহিনীর প্রায় দেড় হাজার অফিসার ও সদস্যকে হত্যা করা হয়। চাকরিচ্যুত ও কারাবন্দি হন প্রায় আড়াই হাজার সদস্য। তাদের সবাই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, আজকে এটা প্রকাশ হচ্ছে যে বিনা বিচারে বেছে বেছে মুক্তিযোদ্ধাদের মারা হয়েছে। যাদের মারা হয়েছে তাদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার বাইরে ৫০ জনও আছে কিনা সন্দেহ।
ওই একই সময়ে জাপান এয়ার লাইন্সের একটি বিমান ছিনতাই করে ঢাকায় আনেন জাপানি রেড আর্মির কমিউনিস্টরা। সেই ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যুত্থান জড়িত কিনা তা আজও অজানা।
