হোম অন্যান্যসারাদেশ জালালপুরে বধ্যভূমি নির্মান করায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আনন্দ

জালালপুরে বধ্যভূমি নির্মান করায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আনন্দ

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 149 ভিউজ

বিশেষ প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দীর্ঘদিন, অরক্ষিত গণকবরটি বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভতে রুপ নেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আনন্দ ফিরে এসেছে। ইতিমধ্যে বধ্যভূমি নির্মানের প্রায় ৭৫ ভাগ কাজ শেষে হয়েছে।
তালা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সংরক্ষন কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিত দাশ বাপি জানান, ২০০৭ সালে কমিটির দাবীর প্রেক্ষিতে জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন করা হয়। সাথে সাথে তৎকালিন ইউপি চেয়ারম্যান সরদার রফিকুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পতাকা ষ্ট্যান্ডার্ডের পাশে স্মৃতি ফলক নির্মান করেন। সেই থেকে সরকারি ভাবে ২৫ মার্চ এই বেদিতে পুস্পস্থপক অর্পন করা হয়।

সাতক্ষীরা গণপূর্ত এর দপ্তর সূত্রে জানাগেছে, ১৯৭১ এ মহান মুক্তিযোদ্ধা চলাকালে পাকিস্থানী হানাদার বাহীনি কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমি সূমহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ (২য় পর্যায়ে ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ বধ্যভূমিস্তম্ভ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সাতক্ষীরার ঠিকাদারী প্রতিষ্টাণ মেসার্স শফি এন্টারপ্রাই কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মুস্তফা লূৎফুল্লাহ এ বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ, নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করছেন। বর্তমানে কাজের ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

তালা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সংরক্ষন কমিটির একটি সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালের ১৫ আগষ্ট রাতে তালা উপজেলার জালালপুর গ্রামে রাজাকার আলবদরের বুলেটে নিহত হন ১৮ জনসহ অনেকে। এরা হলেন-শ্রীমন্তকাটি গ্রামের শহীদ আব্দুল বারী (২৮) কৃষ্ণকাটি গ্রামের বদির শেখ (৩২), জালালপুর গ্রামের অন্নদা সেন (৮৫), আছিয়া বিবি (৪৫), অনিমা দাশ (২৬), দিপংকর দাশ (১), দুলাল চন্দ্র বর্ধন (১৫), হরিপদ ঘোষ (৭৫), অধীর চন্দ্র ঘোষ (৬৫), সাহেব সেন (৩০), উমাপদ দত্ত (৪০), বাদল প্রমানিক (৫০), অশোক প্রমানিক (৩৫), মোবারক মোড়ল (২০) সহ নাম না জানা আরও অনেকেই নিহত হন।
সাতক্ষীরার জেলা ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি উপাধ্যক্ষ মহিবুল্লাহ মোড়ল জানান, ১৯৭১ সালের ১৫ আগষ্ট রাতে তার বাবা আব্দুল বারী সহ ১৮ জন শহীদ হন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার পরে জালালপুর ইউনিয়নের কোনো বধ্যভূমি হয়নি। দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিলো। বর্তমানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বধ্যভূমি নির্মান করা হচ্ছে।

জালালপুর বধ্যভূমি স্মৃতি সংরক্ষন কমিটির আহবায়ক যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল আব্দুর রশিদ জানান, ১৯৭১ সালে ১৮ জন শহীদের মধ্যে অনিমা দাশ নামে একজন গৃহবধু মারা যান। তার সাথে থাকা এক বছরের শিশু দিপংকর দাশ হানাদারদের গুলিতে নিহত হয়। কিন্তু কোনো বধ্যভূমি ছিলো না এখানে। দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকা স্মৃতিস্তম্ভ বধ্যভূমিতে রুপ নেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আনন্দ ফিরেছে। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ নির্মাণাধীন এ-বধ্যভূমি দেখতে আসছেন।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য পলাশ কুমার ঘোষ জানান, নিজস্ব অর্থায়নে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সংরক্ষন কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিত দাশ বাপি খাল ও ডুবা ভরাট করেন। সেখানে বর্তমানে বধ্যভূমি নির্মান করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এ বধ্যভূমি দেখতে আসছেন।

জালালপুর ইউনিয়নের চেয়াম্যান এম মফিদুল হক লিটু জানান,দীর্ঘদিন ইউনিয়ণ পরিষদের সামনে একটি ছোট স্মৃতিস্তম্ভ ছিলো। বর্তমানে সরকার নতুন করে বধ্যভূমি নির্মান করায় এলাকার মানুষ খুবই খুশি হয়েছেন। তবে এখানে সরকারি সম্পত্তি থাকায় একটি দর্শনীয় পার্ক হলে আরও মানুষের সমাগম বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন জানান, কাজটি দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এতে স্থানীয় এলাকাবাসিসহ মুক্তিযোদ্ধারা খুশি হয়েছেন।

s

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন