হোম আন্তর্জাতিক জান্তাবিরোধী লড়াইয়ে দুদিনে নিহত ১০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মিয়ানমারে জান্তাবিরোধীদের সঙ্গে লড়াইয়ে দুদিনে প্রায় একশো সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র প্রতিরোধ বাহিনী। গণমাধ্যম বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে পিডিএফ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠনের অব্যাহত প্রতিরোধের মুখে দেশটির সামরিক সরকার অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটিতে বাড়তি সেনা মোতায়েন করেছে জান্তা সরকার।

মিয়ানমার সেনা সদস্যদের সঙ্গে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহীদের লড়াই ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। একদিকে রাস্তায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ অন্যদিকে বিভিন্ন অঞ্চলের দখল নেয়া সেনাদের হটাতে সশস্ত্র যুদ্ধ করছে বিদ্রোহীরা। সবশেষ সাগাইং, ম্যান্দালে, ইয়াঙ্গুনের বিভিন্ন এলাকা, চীন এবং কায়াহ প্রদেশে সেনা সদস্যদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষ করে দেশটির পিপল’স ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স পিডিএফ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম ইরাবতি। বৃহস্পতিবারও কায়া প্রদেশের দেমোসো শহরে সেনা সদস্যদের ওপর কারেন ন্যাশনালিটিস ডিফেন্স ফোর্স, কারেন আর্মি যৌথ হামলা চালায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে তুমুল লড়াইয়ে শাসক গোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন সেনা মারা গেছে। এ সময় বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ করতে বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়। চালানো হয় গোলা হামলা।

তবে গেল দুদিনে সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়েছে সাগাইং অঞ্চলে। পিডিএফ বাহিনীর সঙ্গে সেনাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। বিদ্রোহীদের প্রতিরোধের মুখে সেনারা পিছু হঁটতে বাধ্য হয়। এছাড়া ওয়াকান গ্রামে কাওলিন বিদ্রোহীদের হামলায় অসংখ্য সেনা সদস্য নিহত হয়েছে বলেও দাবি কাউলিন রেভ্যুলেশন গোষ্ঠীর।

মিয়ানমারের বেশ কিছু অঞ্চল এখনো সশস্ত্র বিদ্রোহীদের দখলে। তবে সে অঞ্চলগুলোতে নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া সেনা সরকার। সেনাবাহিনী মোয়েতারের দখল নেয়ার চেষ্টার সময় তাদের প্রতিরোধ করে তিগিয়াইং রেভ্যুলেশন ও তিগিয়াইং পিডিএফ।

মিয়ানমারে গত পহেলা ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। জান্তাবিরোধীদের প্রতিহত করতে একের পর এক গ্রাম গুঁড়িয়ে দিচ্ছে সামরিক সরকার। সবশেষ চীন প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় থান্তলাং শহরে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছে সেনা সদস্যরা। বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি গোলা দিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে সেনা সদস্যরা।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন