হোম আন্তর্জাতিক জাতিসংঘে তালেবানের রাষ্ট্রদূত সোহাইল শাহিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে নিউইয়র্কের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে ভাষণ দিতে চেয়েছে তালেবান। এ ক্ষেত্রে গোষ্ঠীটির দোহাভিত্তিক মুখপাত্র সোহাইল শাহিনকে জাতিসংঘে আফগান রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) একটি চিঠির বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে।

আগস্টে তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পতনের পর তারা জানিয়েছে, জাতিসংঘে আফগানিস্তানের পূর্ববর্তী দূত এখন আর দেশটির প্রতিনিধিত্ব করে না। জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র বলেন, তালেবানের জাতিসংঘে শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনায় যোগ দিতে চাওয়ার অনুরোধ যাচাই করবে ৯ সদস্যের একটি কমিটি। যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া।

তবে পরবতর্তী সোমবার সাধারণ সভা শেষ হওয়ার আগে এই কমিটির বৈঠকে বসার সম্ভাবনা নেই। কাজেই সে পর্যন্ত জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, বৈশ্বিক সংগঠনটির কাছে আফগানিস্তানের মুখপাত্র হিসেবে বিবেচিত হবেন আশরাফ গনির সরকারের মনোনয়ন দেয়া গুলাম ইসাকজাই।

সাধারণ সম্মেলনের শেষদিন, ২৭ সেপ্টেম্বর বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে তার। তবে তালেবান বলছে, তার কার্যক্রম আর আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করে না। সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনিকে বিশ্বের অনেক দেশ এখন আর স্বীকৃতি দেয় না বলেও মন্তব্য করেছে তালেবান।

এদিকে প্রতিশ্রুতি দিয়েও আফগানিস্তানে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর সময় কোনো নারী সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করেনি তালেবান। যা নিয়ে নতুন করে বইছে নিন্দার ঝড়। এ অবস্থায় দেশটিতে নারী শিক্ষা হুমকিতে পড়ায় সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেন, নারীদের শিক্ষার অধিকার বঞ্চিত করা ইসলামের পরিপন্থী। তবে বহির্বিশ্বের সমর্থন আদায়ে পাকিস্তান ছাড়াও চীন ও রাশিয়ার কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন আফগান প্রধানমন্ত্রী মোল্লা হাসান আখুন্দ।

নারীদের ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও দিন দিন উল্টো পথে হাঁটছে তালেবান। আফগানিস্তানে গোষ্ঠীটি ক্ষমতায় আসার পর থেকে নারীদের উল্লেখযোগ্য কোনো অধিকারই দেয়া হয়নি। এমনকি প্রতিশ্রুতি দিয়েও নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর সময় কোনো নারী সদস্যকে ঠাঁই দেয়নি তালেবান। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে উপ-মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যাদের সবাই পুরুষ।

শনিবার যখন দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল পুনরায় চালু হয়, তখন কেবল ছেলে শিক্ষার্থী ও পুরুষ শিক্ষকদের হাজির হতে বলা হয়। এতে নারীরা পড়েন অনিশ্চয়তায়। যা নিয়ে চলছে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা। নিন্দার ঝড় বইছে নারীদের কাজের সুযোগ না দেয়াতেও।

এমন সব সমালোচনার মধ্যে আগুনে ঘি ঢাললেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রতিবেশী আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার দেয়া থেকে বিরত রাখা ইসলামের পরিপন্থী। সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের স্বীকৃতি পেতে তালেবান সরকারকে যেসব শর্ত মানতে হবে সেগুলোও তুলে ধরেন তিনি।

যদিও তালেবান সরকার আন্তর্জাতিক সমর্থন উঠে পড়ে লেগেছে। এ জন্য আফগানিস্তানে নিযুক্ত চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মাদ হাসান আখুন্দ। তালেবানের অন্যতম নেতা মোহাম্মদ নাঈম বলেন, বৈঠকে আফগানিস্তানের বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও। দেশব্যাপী যে খাদ্য সংকটের কথা বলা হচ্ছে তা দূর করতে কাজ করবে চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তান।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন