নিজস্ব প্রতিনিধি :
ব্যারিস্টার হতে চেয়েছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী স্বর্ণা। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল। আজ সকালে বাড়ির কাজের বুয়া আবিষ্কার করলো ছাদের সিলিংয়ের হুকের সাথে ঝুলছে স্বর্ণার মৃত দেহ। ভেঙে চুরমার হয়ে গেল স্বর্ণার ব্যারিস্টার হওয়ার স্বপ্ন। সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল মধুমোল্লারডাঙ্গীর নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী স্বর্ণা। কিন্তু আত্মহত্যার কারন এখনও অজানা রয়ে গেল।
এলাকাবাসী জানায়, সাতক্ষীরা শহরের খুলনা মোড়ের পাশে মধুমোল্লারডাঙ্গীর পিতা ভূমি অফিসার আব্দুস সেলিমের কন্যা মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া মেহজাবিন স্বর্না। সে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। বৃহস্পতিবার একটি পরীক্ষার জন্য বাবার সাথে তার ঢাকায় যাবার কথা ছিল। তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। রোববারের সেই পরীক্ষায় বসা হলো না তার।
স্বর্নার বাবা নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার ভূমি অফিসার আব্দুস সেলিম জানান, আমি ছিলাম কর্মস্থলে। মঙ্গলবার রাতে পড়া শেষ করে স্বর্না তার মায়ের সাথে ঘুমিয়ে ছিল। ভোর ৫টা কিংবা সাড়ে ৫টায় মায়ের কোল থেকে উঠে নিজের ঘরে যায় সে । আজ ছুটির দিন হওয়ায় সবাই বেশীক্ষন ঘুমন্ত ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে কাজের মেয়ে ঝাড়– দিতে স্বর্নার ঘরে ঢুকতেই দেখতে পায় তার মরদেহ। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। নিকটেই সদর হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তার স্বর্নাকে মৃত ঘোষনা করেন।
প্রতিবেশীরা জানান, স্বর্না খুব মেধাবী মেয়ে ছিল। খুব হাসিখুশী সরল সহজ স্বভাবের মেয়েটি থাকতো লেখাপড়া নিয়েই ব্যস্ত। তার লক্ষ্য ছিল ব্যারিস্টার হবার। ওর কথা অনুযায়ী আমরা জানতাম স্বর্না একদিন ব্যারিস্টার হবে। কিন্তু এখন সব হারিয়ে গেল।
সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক মোঃ শরিফুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে আমরা হাসপাতাল থেকে লাশ গ্রহন করি। ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ বাবা মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তার গলায় ফাঁসের দাগ ছিল। প্রাথমিকভাবে আমি এটাকে আত্মহত্যা বলে মনে করছি। পরিবারের দাবিও তাই। এ নিয়ে আরও তদন্ত হবে। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
