তালা, (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটায় ভারসা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুলনা রানী ঘোষের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে জোর পূর্বক টয়লেট পরিষ্কার, থালা বাসন ধেয়ানো সহ নানা রকম কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে প্রধান শিক্ষিকার অপসারনের দাবীতে খুলনা বিভাগীয় শিক্ষাকর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পিতামাতা। সোমবার সকালে ঘটনার তদন্তে আসে জেলা শিক্ষাকর্মকর্তা রুহুল আমিন হাওলাদার।
সরজমিনে গেলে ভারসা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী তাহমিনার মা আয়রিন বেগম বলেন,প্রায় তিন মাস ধরে তার মেয়েকে দিয়ে জোর করে বাসন পত্র পরিষ্কার কারতেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুলতা ঘোষ। শিক্ষিকার নির্যাতন সইতে না পেরে এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা মেয়ে । এরপর নির্যাতনের বিষয়টি মেয়ে তাকে খুলে বলে। পরবর্তীতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে জানিয়ে প্রতিকার না পেয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীর সহয়তায় পহেলা জুলাই খুলনা বিভাগীয় শিক্ষাকর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেন তিনি । এছাড়া দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে টয়লেট পরিষ্কার করার মত জঘন্য কাজ করাতেন ওই শিক্ষিকা বলেন অভিযোগ করেন তিনি।
ভারসা গ্রামের দীন ইসলাম সরদার বলেন, তার মেয়ে বৃষ্টি ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা যোগদানের পর প্রতিষ্ঠানটি দূর্নীতির আখড়া খানায় পরিনত হয়েছে। ওই শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে আঙ্গিনা লাগানে গাছের ফল বিক্রি করে সেই টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়া বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের টয়লেট পরিষ্কার ঘর ঝাড়ু ছাড়া নিজের ব্যাবহারিত বাসন পত্র ধোঁয়ান ওই শিক্ষিকা । সবশেষে প্রধান শিক্ষিকার অপসারন সহ শাস্তির দাবীতে সৃক্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানায়, প্রধান শিক্ষিকা সুলতা ঘোষ এলাকার এক প্রভাবশালী শিক্ষকের স্ত্রী হওয়ার কারনে বার বার অপরাধ করেও পার পেয়ে যায়। তার খামখেয়ালীর কারনে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত সহ শিক্ষার্থীরা অন্যবিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এছাড়া করোনাকালীন সময়ে সরকারী বরাদ্ধকৃত টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এবিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সহ প্রধান শিক্ষিকাকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারশা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুলতা রানী ঘোষ বলেন, আমি কোন শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যাক্তিগত কাজ কোনদিন করিনি। লোকজন আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। আজ জেলা শিক্ষাকর্মকর্তা( ডি পি.ও) স্যার তদন্তে আসছে তিনি বিষয়টি দেখবেন। এবিষয়ে কথা বলার জন্য ভারসা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুজ্জামানের সাথে যোগাযোগের জন্য একাধিক বার চেষ্টা করলে তিনি মুঠোফোনটি রিসিভ করেন নি।
সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষাকর্মকর্তা (ডি. পি. ও) রুহুল আমিন হাওয়ালাদার জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে সত্যতা পেলে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
