জাতীয় ডেস্ক :
বন্দরের একটিমাত্র সড়ক নিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে ছিলেন হিলিবাসী। হিলি স্থলবন্দর ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর এলাকার সড়কে তেমন কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ফলে জরাজীর্ণ সড়ক নিয়ে চরম ভোগান্তিতে ছিলেন এ অঞ্চলের মানুষ।
অবশেষে চার লেন সড়কের ছোঁয়া পেতে যাচ্ছেন হিলিবাসী। স্থানীয়রা বলছেন, চার লেন সড়কের ফলে স্থানীয় নাগরিকসহ বন্দরটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়িক কাজে আসা লোকজনের ভোগান্তি কমবে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করায় খুশি পুরো হিলিবাসী।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে এই উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আনফ সরকার। পুরো কাজটি সম্পন্নে দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স, ঢাকা (এনডিই)।
জানা গেছে, সড়কটির উন্নয়ন কাজে ৩৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই প্রথম পর্যায়ে সড়কটির উত্তর পাশে ৩৫০ মিটার কাজ চলবে। এর মাঝে অধিগ্রহণ কাজ পুরোপুরি শেষ হলে দ্রুত সড়কটির উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হবে।
দিনাজপুর সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, হাকিমপুর মহিলা কলেজ থেকে হিলি জিরো পয়েন্ট হয়ে পানামা পোর্ট পর্যন্ত ২ হাজার ২৫০ মিটার সড়ক ফোর লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। পুরো সড়কে থাকবে আরসিসির শক্ত ঢালাই। এ ছাড়াও পানি নিষ্কাশনে সড়কটির ধার ঘেঁষে ২ হাজার ৫০০ মিটার একটি ড্রেন থাকবে।
হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা বলেন, সড়কের যে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে, তাতে আমরা অনেক খুশি। এই বন্দর থেকে প্রতিদিন সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণ করে। তাই সরকার প্রধানের কাছে অনুরোধ যেন এই বন্দরটিকে সেই আঙ্গিকেই দেখা হয়।
হিলি পানামা পোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাফ হোসেন প্রতাপ মল্লিক বলেন, হিলির প্রধান সমস্যা ছিল সড়কের। সড়কটি একেবারে ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় ভারতীয়সহ দেশীয় বিভিন্ন গাড়ি যাতায়াত করতে পারত না। আর এর মূল প্রভাব পড়বে এই স্থলবন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর। সড়কটির উন্নয়নের ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমদানি-রফতানিতে আমূল পরিবর্তন আসবে।
দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আনফ সরকার বলেন, ‘আমরা দ্রুত সময়ে কাজটি শেষ করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব। কাজের মেয়াদ এক বছর ধরা আছে। তবে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে কাজটি সম্পন্ন করার সময় বৃদ্ধি পেতে পারে।’
