হোম অন্যান্যসারাদেশ গুমের শিকার ইবির দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন 

গুমের শিকার ইবির দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন 

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 47 ভিউজ
ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) গুম হওয়া দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে শাখা ছাত্রশিবির। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ মানববন্ধন করেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
মানববন্ধনে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, গুমের শিকার ওয়ালিউল্লাহর বড় ভাই অধ্যক্ষ সাইফুল্লাহ, সেক্রেটারি ইউসুব আলী, প্রচার সম্পাদক আবসার নবী হামযা ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক হাসানুল বান্নাহ অলিসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা- ‘আমার ভাইয়ের খোঁজ দিতে হবে, দিয়ে দাও’, ‘প্রশাসনের টালবাহানা মানি না, মানব না’, ‘আমার ভাই আয়নাঘরে, প্রশাসন কী করে?’, ‘ওলি-মুদাক্কাস আয়নাঘরে, প্রশাসন কী করে?’ সহ নান স্লোগান দেয়।
মানববন্ধনে গুমের শিকার ওয়ালিউল্লাহর বড় ভাই অধ্যক্ষ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘যখন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি, তখন আমার পা কেঁপে ওঠে। কারো সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলতে পারি না, কথা বলার সময় কণ্ঠও কেঁপে ওঠে। এই কষ্ট শুধু ভুক্তভোগীরাই বুঝতে পারবেন। ইবিতে আসার সময় বাবা-মাকে বলতে পারি না, কারণ তাদের চোখের সামনে এই দুঃখ প্রকাশ করা যায় না। আমরা চাই না আর কেউ এভাবে গুম হোক। এ ধরনের গুম একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেয়। বর্তমান প্রশাসনকে প্রতিবাদের ভাষায় জানাতে চাই, তৎকালীন প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের গুম করা সম্ভব নয়। সেই সময় আমি ও মুকাদ্দাসের ছোট কাকা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে গিয়ে খোঁজ নিয়েছিলাম যে, তারা কোথায় আছে। তখন জানতে পেরেছি, তৎকালীন প্রশাসন চিহ্নিত করেছিলেন যে, তারা কোথায় থেকে গুম হয়েছেন। এরপর আর সন্ধান পাইনি। আমার বাবা সবসময় বলেন, ‘আমার সন্তান যদি আর বেঁচে না থাকে, অন্তত তার কবরের সন্ধান দিন।’ একই সঙ্গে সারাদেশের সব গুমের শিকার মানুষদেরও সন্ধান চাই।’
সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের পতনের এক বছর পার হলেও আমরা এখনো ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের কোনো খোঁজ পাইনি। প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারকে জানাতে চাই, শিক্ষার্থীরা আন্দোলনসহ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন? আপনাদের গুম কমিশন আসলে একটি অথর্ব কমিশন। তারা ঘুরিয়ে–পেঁচিয়ে ফ্যাসিবাদকেই প্রশ্রয় দিচ্ছে। অতিদ্রুত গুম কমিশনের প্রতিবেদন শিক্ষার্থী ও জাতির সামনে প্রকাশ করুন। না হলে এই ব্যর্থতার দায় আপনাদেরকেই নিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, তৎকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর, প্রভোস্ট, ছাত্রলীগ-গুন্ডালীগের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় ডিজিএফআই ও এনএসআইসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব করা হলে ওয়ালিউল্লাহ ও মুকাদ্দাসের সন্ধান পাওয়া যাবে। বিপ্লবের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা ইবি প্রশাসনের কাছে আমাদের গুম হওয়া দুই ভাইদের বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এখনো ইবি ভিসিকে ওয়ালিউল্লাহ–আল মুকাদ্দাসের নামটাও নিতে দেখিনি। যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করে দেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সাভারের নবীনগর এলাকা থেকে গুমের শিকার হন ইবির দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ এবং আল ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের আল মুকাদ্দাস। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির করেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন