খুলনা অফিস :
খুলনার ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়রা উপজেলা। এ উপজেলায় দক্ষিণ বেদকাশী, উত্তর বেদকাশী, কয়রা সদর, মহারাজপুর ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ২৪টি পয়েন্টে বেড়িবাধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে প্রায় অর্ধশত গ্রাম।এ সকল এলাকার লক্ষাধিক মানুষ ঘরবাড়ী হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ীসহ সকল সহায় সম্পদ। এই অবস্থায় নিজেদের রক্ষায় উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের আংটিহারা স্লুইচ গেটের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধ স্থানীয় জনসাধারণ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাধীন সমাজকল্যাণ যুব সংস্থার সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মেরামত করেছে। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারমান, মেম্বরসহ এলাকার কয়েক শত মানুষ অংশগ্রহন করে।
এদিকে, কয়রা সদর ইউনিয়নের আপামর জনসাধারণ স্বেচ্ছাশ্রমে নিরন্তর চেষ্টা করে নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া বেড়ীবাঁধ মেরামতের মাধ্যমে রক্ষা করেছে। শুক্রবার সকালে এলাকার শত শত মানুষ ঝুঁড়ি কোদাল নিয়ে কয়েক ঘন্টা প্রাণান্তকর লড়াই করে বেড়িবাধ মেরামত করতে সক্ষম হয়েছে। এলাকার জনসাধারণের এই সংস্কার প্রচেষ্টায় সাথে থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করেছেন কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান এস. এম. শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ প্রতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড কয়রায় বেড়িবাধ রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে মেরামত করে। কিন্তু দূর্যোগকালীন সময়ে এলাকার মানুষেরেোন কাজে আসে না। প্রতি বছর উপজেলার কয়েখ লাখ মানুষকে চরম দূর্ভোগে পড়তে হয়। তাই কয়রার পাচটি নদীর তীর দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রন বেড়িবাধগুলি টেকসই করতে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে পুন:নির্মান ও সংস্কার করার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।##
