আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
দেশের বাইরে কোনো কয়লাভিত্তিক প্রকল্প নির্মাণ করবে না চীন। বৈশ্বিক কার্বন-নির্গমনের লাগাম টেনে ধরতে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। চীনের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছিল।
বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।-খবর বিবিসির
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীন ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে তহবিল ঢেলেছে চীনারা। কিন্তু এই অর্থায়নের জন্য তাদের ব্যাপক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কারণ প্যারিস জলবায়ু চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব।
জাতিসংঘের বার্ষিক এই সম্মেলনে ভিডিও রেকর্ডিং বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, সবুজ ও কম-কার্বনের জ্বালানি ব্যবহারে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তায় পদক্ষেপ বাড়াবে চীন।
তবে এর বাইরে তার কাছ থেকে কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। চীন যদি নতুন এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করে, তবে উন্নয়নশীল দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সীমিত হয়ে আসবে।
বেল্ড অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীন বিভিন্ন দেশে ট্রেন, সড়ক, বন্দর ও কয়লা প্রকল্পে বিপুল অর্থ ঢেলেছে চীন। কিন্তু বহুবছর পর ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো তারা কোনো কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে তহবিল যোগান দেয়নি।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্বন-নির্গমনকারী দেশ চীন ঘরোয়া জ্বালানির প্রয়োজন মেটাতে অনেক বেশি কয়লার ওপর নির্ভরশীল। ২০৩০ সালের আগে কার্বন-নির্গমনের ক্ষেত্রে চীন সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছাবে বলে গেল বছর অঙ্গীকার করেছিলেন শি জিনপিং। এরপর ২০৬০ সালের মধ্যে তারা কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে।
শি জিনপিংয়ের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক দূত জন কেরি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা শুনে আমি যারপরনাই আনন্দিত।
এই খবরে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের কপ২৬-এর প্রধান অলোক শর্মা। তিনি বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎপ্রকল্পের দেয়ালে এটি একটি পরিষ্কার লেখনি। বিদেশে নতুন কয়লা-ভিত্তিক প্রকল্প নির্মাণ না করতে শি জিনপিংয়ের অঙ্গীকারকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। চীন সফরে এটি আমাদের মূল আলোচ্যবিষয় ছিল।
