জাতীয় ডেস্ক :
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নে নাসির উদ্দিন মাইজভাণ্ডারী নামের এক বৃদ্ধের পায়ুপথ দিয়ে টর্চলাইট ঢুকিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান ভূঁইয়ার যোগসাজশ ও ইন্ধন রয়েছে বলে প্রচার করার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা।
মানববন্ধনে চেয়ারম্যানের সমর্থকদের বাইরে একটি মাদরাসার শতাধিক শিক্ষার্থীকেও অংশগ্রহণ করানো হয়, যা নিয়ে সচেতন মহলের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আল আমিন বাজারের প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা।
জানা গেছে, মানববন্ধনের ব্যানারে আয়োজক হিসেবে ‘চরওয়াপদা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ’ লেখা থাকলেও জনসাধারণের পাশাপাশি স্থানীয় ‘আল আমিন বাজার দাখিল মাদরাসার’ শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলাকালীন তা বন্ধ রেখে জোর করে এনে সড়কে দাঁড় করিয়ে মানববন্ধন করিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানববন্ধনে শিশু শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল বেশি। দীর্ঘসময় ধরে শিশু শিক্ষার্থীদের এভাবে সড়কে দাঁড় করিয়ে রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক, যদিও নিজেদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বুধবার সকালে একটি ক্লাস শেষ করে আর একটি ক্লাস করার আগে শ্রেণি কক্ষে গিয়ে শিক্ষকরা তাদের বের হয়ে সড়কের দিকে যেতে বলেন। কেন বা কী জন্য তাদের সড়কে এনে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে, তা-ও জানে না কোনো শিক্ষার্থী। তাদের বক্তব্য: হুজুররা (শিক্ষক) আসতে বলেছেন, তাই এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, ‘আমরা বাচ্চাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠিয়েছি পড়ালেখার জন্য। তাদের দিয়ে মানববন্ধন করানো অন্যায়। এটা কোনোভাবে মেনে নিতে পারি না। তা ছাড়া সেখানে যদি প্রতিপক্ষ কোনো অঘটন ঘটাত, তাহলে আমাদের শিশুদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নিত?’ যেসব শিক্ষক এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান তারা।
আল আমিন বাজার দাখিল মাদরাসার সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘জুলুমের বিরুদ্ধে আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সড়কে দাঁড়িয়েছে। তারা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তো কোনো অন্যায় করেনি। আমরাও চাই যারা বৃদ্ধের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন করেছে, তাদের বিচার হোক। তবে, এ ঘটনায় জড়িত না হয়েও যাতে কেউ হেনস্তার শিকার না হয় তারও দাবি জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদরাসার ম্যানেজিং (পরিচালনা) কমিটির সদস্যদের অনুমতি নিয়েই শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে পাঠানো হয়েছে। এটা আমার একান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।’
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুল হক বলেন, ‘পাঠদান চলাকালীন পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে দাঁড় করানো অন্যায়। আমি খোঁজ নিচ্ছি। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৈতী সর্ববিদ্যা বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ আমার অনুমতি নিয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেনি। আমি বিষয়টি খবর নিচ্ছি।’
জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের থানারহাট সংলগ্ন আমানতগঞ্জে শেখ নাছির উদ্দিন মাইজভাণ্ডারীকে পায়ুপথে টর্চলাইট ঢুকিয়ে নির্যাতন করা হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন ওই ঘটনার সঙ্গে চরওয়াপদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান ভূঁইয়া জড়িত বলে দাবি করেন।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর ছেলে বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করলেও সেখানে চেয়ারম্যানকে আসামি করেননি। একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর পরিবারের। আহত নাছির উদ্দিন ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শাহনাজসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
