জাতীয় ডেস্ক :
২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত কিশোর অপরাধে যুক্ত ৩৭৩ জনকে আইনের আওতায় এনেছে র্যাব। তারা বলছে, কিশোর গ্যাং তৈরি করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করছেন প্রভাবশালীরা। আইনে তরুণ বয়সীদেরও শিশু হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে তাই কিশোর গ্যাং দমনকে বড় চ্যালেঞ্জ বলছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, শিশুদের বয়স ১৮ বছরের চেয়ে কম করার বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করছে সরকার।
২০১৭ সালে রাজধানীর উত্তরায় আদনান হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশে কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংসতা জনসমক্ষে আসে। এরপর আধিপত্য বিস্তার ও সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বসহ নানা বিবাদে জড়িয়ে বেড়েই চলছে কিশোর অপরাধ।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব বলছে, ২০২০ সালে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ২৬৪ জন কিশোর নিহত হয়েছে। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ২২১। গত ১৭ বছরে খোদ রাজধানীতেই কিশোর অপরাধীদের হাতে খুন হয়েছেন ১২০ জন। এর মধ্যে গত ২ বছরে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে প্রাণ যায় ৩৪ জনের।
শুরু থেকেই কিশোর অপরাধ দমন ও সংশোধণে কাজ করেছ র্যাব। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কিশোর অপরাধবিরোধী সামাজিক প্রচারণার অংশ হিসেবে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের উদ্বোধন করে বাহিনীটি।
অনুষ্ঠানে র্যাব মহাপরিচালক জানান, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৭৩ জন গ্যাং সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কিশোর গ্যাংকে সামনে রেখে ফায়দা হাসিল করছে নানা চক্র, দাবি র্যাব প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং এর সাথে শুধু কিশোররা নয়, বড়রাও যুক্ত আছে। একটা পর্যায়ে গিয়ে দেখা বড়দের সাথেও ভেজালে যুক্ত হয়ে যায়।
কিশোর গ্যাংকে বড় চ্যালেঞ্জ দাবি করে পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, আইনের কারণে ১৮ বছর পর্যন্ত সবাইকে শিশু হিসেবে গণ্য করতে হয়। তাই দমন করা যাচ্ছে না অপরাধ।
তিনি বলেন, ১৮ বছর হলে যিনি পূর্ণ যুবকে পরিণত হয়ে যান তাকেও শিশু হিসেবে বিবেচনা করতে হচ্ছে। এ কারণে এই কিশোর গ্যাংদের বিরুদ্ধে চাইলেও বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানালেন, শিশু হিসেবে গণ্য করার বয়সসীমা ১৮’র নিচে করার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।
তিনি বলেন, এই ছেলেরা ১৮ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যায়। তাই আমাদের বয়স নিয়ে এই বিষয়টি চিন্তা করার সময় চলে এসেছে।
কিশোর অপরাধ দমন ও মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিভাবক, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান অংশগ্রহণকারীরা।
