হোম জাতীয় কানাডা থেকে মুমূর্ষু শওকতকে দেশে নিয়ে এলো বাংলাদেশ বিমান

জাতীয় ডেস্ক :

কানাডায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়া মেধাবী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শওকত অবশেষে ফিরেছেন মায়ের বুকে। রোববার (৭ আগস্ট) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, মোহাম্মদ শওকত। অসাধারণ মেধাবী ছাত্র। উচ্চ শিক্ষার জন্য বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ২০১৯ সালে কানাডার টরোন্ট শহরের নামকরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বেশ ভালোই ছিল তার শুরুটা। কিন্তু ২০২১ সালে তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। বন্ধুদের সাহায্য সহায়তায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হলে নিবিড় পরিচর্যায় দীর্ঘ চিকিৎসা চলে। প্রবাস জীবনের বাস্তবতার ব্যস্ততায় আস্তে আস্তে কেউ আর অচেতন শওকতের পাশে রইল না!

১৩ হাজার মাইল দূরে বাংলাদেশে বসে জায়নামাজে হতভাগী মায়ের প্রার্থনা-কান্না ! একবার যদি সে তার আদরের সন্তানের মুখখানা দেখতে পারত! মায়ের দুঃখ সইতে না পেরে তার বাবা বহুকষ্টে দীর্ঘচেষ্টায় কানাডার ভিসা সংগ্রহ করে ছুটে যান টরোন্ট শহরে।

নিথর দেহ পড়ে আছে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে! ছেলে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রয়! বাবাকে চিনতে পারে না! বাবার কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে যায়! দুঃখী বাবা সিদ্ধান্ত নেন তার ছেলেকে তিনি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু চাইলেই কি পারা যায়!

বাংলাদেশে আগত সব বিদেশি এয়ারলাইন্সের দুয়ারে দুয়ারে ধর্ণা ধরে আকুতি মিনতি করেন। কিন্তু কোনো এয়ারলাইন্সই তার ছেলেকে বাংলাদেশে আনতে রাজি হয়নি। আশাহত বাবা একবুক পাথরচাপা ব্যথা নিয়ে তার আদরের সন্তানকে হাসপাতালে রেখেই ফিরে আসেন বাংলাদেশে। হয়তো আর কোনো দিন দেখা হবে না এ জনমে! হাসপাতালই হয়ে যায় সন্তানের শেষ ঠিকানা ! কোনো দিন সে আর ফিরবে না নিজের দেশে, মায়ের কাছে!

শওকতের মা-বাবা টেলিভিশনে খবর দেখেছে – বাংলাদেশ বিমান যাবে কানাডা। আটলান্টিকের নোনা জল হেরে যায় মায়ের চোখের জলে! আশায় বুক বাঁধে! অপেক্ষা আর শেষ হয় না। অবশেষে গত ২৭ জুলাই শুরু হয় বিমান চলাচল। বাবা আবার ছুটে যান কানাডায়! ছেলেকে আনতেই হবে দেশে!

বাংলাদেশ বিমানতো শুধু লাভের নেশায় ব্যবসা করে না। বাংলাদেশ বিমান মানবতা বিবেচনা করে , সে জাতীয় দায়িত্ব পালন করে। অসহায় শিক্ষার্থী শওকতের পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ বিমান।

৪ আগস্ট দেড় বছর যাবত হাসপাতালের বেডে পড়ে থাকা অসুস্থ শওকতকে উড়োজাহাজে ‘স্ট্রেচার বেডে’ দেশে ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশ বিমান।

কিছুক্ষণ আগে তার বাবাকে ফোন করে জানতে চাইলাম ঠিকমতো বাসায় পৌঁছেছেন কিনা ! কেঁদে কেঁদে বললেন, ‘বাংলাদেশ বিমান না থাকলে আমি আমার ছেলেকে দেশে আনতে পারতাম না! বিমানের এ ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারব না! ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ বিমানকে, ধন্যবাদ জানাই বঙ্গবন্ধু কন্যাকে, সে না থাকলে বিমান কানাডা যাইত না! আমার ছেলেকেও হয়তো আর পাইতাম না !’

দোয়া করি প্রতিশ্রুতিবান এ তরুণ মেধাবী ছাত্র শওকত সুস্থ হয়ে আবার ফিরে যাবে কানাডা। তার অসমাপ্ত শিক্ষা সমাপ্ত করে মা বাবার মুখে হাসি ফোটাবে, দেশের জন্য কাজ করবে।

ভ্রমণ করবে সে নিজের টাকায়, নিজের দেশের বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে॥

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে গত ২৭ জুলাই কানাডার টরন্টোর উদ্দেশে উড়াল দেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট। ঢাকার হযরত শাহজালাল (রাহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি টরন্টোর উদ্দেশে রওনা হয়। ফ্লাইটে মোট ১৫৪ জন যাত্রী ছিল। এর মধ্য দিয়ে উত্তর আমেরিকার সঙ্গে আকাশপথে সরাসরি যুক্ত হয় বাংলাদেশ।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন