জাতীয় ডেস্ক :
ঢাকার সাভারে শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এবার প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ সাইফুল হাসানকে শোকজ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
অনুমতি ছাড়া নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান করায় অধ্যক্ষের কাছে সাত কর্মদিবসের মধ্য সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা বোর্ড।
বুধবার (৬ জুলাই) ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর আবু তালেব মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ৩০ জুন আশুলিয়ার হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান বরাবর কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান বলেন, ‘আমি ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছি। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে আমাকে কারণ দর্শানোর একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কলেজের এক শিক্ষক মোবাইলে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। কারণ, হিসেবে তারা বলেছেন, মামলাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তারা কিছু বলেননি। স্কুল শাখাটা বোর্ডের অনুমোদন না নিয়ে চালানো এটার বিষয়ে কীভাবে চালাচ্ছি সেটা জানতে চেয়েছেন। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। এর আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে একটা তদন্ত টিম এসেছিল। তারাই প্রতিবেদন দিয়েছিলেন এ বিষয়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসলে উৎপল স্যারকে হত্যার বিচার অন্য খাতে প্রবাহিত করার জন্য একটা বড় চক্রান্ত শুরু হয়েছে। সব স্কুল উপজেলার অনুমতি নিয়ে এভাবেই চলে। দেখেন, আমরা এতদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছি, উপবৃত্তি পাচ্ছি। তাহলে এতদিন তো শিক্ষা বোর্ড আমাদের বলেনি যে আপনারা বন্ধ করেন।’
ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর আবু তালেব মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষকে আমরা শোকজ করেছি। ওনার নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি কোথা থেকে কীভাবে পেয়েছেন, এ বিষয়টার ব্যাখ্যা চেয়েছি আমরা। কারণ দর্শানোর জন্য সাত কর্মদিবসের মধ্যে সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।’
গত ২৫ জুন কলেজ প্রাঙ্গণে মেয়েদের ক্রিকেট খেলার সময় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম জিতু রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। পরদিন রোববার সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। একই দিন নিহতের বড় ভাই অসীম কুমার সরকার বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
এরপর ২৯ জুন জিতুর বাবা উজ্জ্বল হোসেনকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই দিন রাতে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার হয় জিতু। পরে তাদের উভয়ের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে আজ আদালতে শিক্ষক উৎপলকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় জিতু।
